কয়েক মাস আগে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন। এরপর তাঁকে দলের তরফে বিধানসভা নির্বাচনে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। স্বপ্নার প্রার্থী হওয়া নিয়ে শুরু থেকেই একাধিক বাধা সামনে আসে। ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের খগেশ্বর রায়কে টিকিট দেওয়া হয়নি। তা নিয়ে তিনি ক্ষোভপ্রকাশও করেছিলেন সেইসময়।
এছাড়া উত্তর-পূর্ব রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন স্বপ্না। প্রার্থী ঘোষণার পরে রেল দপ্তরের তরফে অভিযোগ তোলা হয়, কর্মরত অবস্থায় তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নিয়েছেন। এর জেরে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়। তিনি জানান, শুধু চাকরি ছাড়াই নয়, পেনশন নেওয়ার অধিকার থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন। তবুও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র বা এনওসি না মেলায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
শেষমেশ নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর কোনও অপরাধমূলক অভিযোগ না থাকায় নির্বাচনে লড়তে বাধা নেই। এই সিদ্ধান্তের পরই স্বপ্নার প্রার্থী হওয়া নিশ্চিত হয়। আদালতের নির্দেশে এরপরে রেল কর্তৃপক্ষও স্বপ্নাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে ও ‘নো ডিউস সার্টিফিকেট’ দেয়। তারপরেই তিনি মনোনয়ন জমা দিতে সক্ষম হন।
সোমবার মনোনয়ন জমার আগে তিনি স্থানীয় ভ্রামরীদেবীর মন্দিরে পুজো দিয়েছেন। এরপর তিনি বলেছেন, রাজগঞ্জ তাঁর নিজের জায়গা এবং খেলাধুলোর মাটি থেকেই উঠে এসে তিনি এই জায়গায় পৌঁছেছেন। এখন তিনি পুরোপুরি নির্বাচনী প্রচারে মন দিতে চান। তিনি আরও বলেছেন ‘রাজগঞ্জের মানুষ আমাকে খুব ভালোবাসেন। কয়েকদিন ভোটপ্রচার তো করলাম। বাড়িতে যাচ্ছি। তাঁদের আপ্যায়নে আমি আপ্লুত।’
অন্যদিকে, দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়কেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত স্বপ্নার মনোনয়ন গৃহীত হওয়ায় সেই জল্পনার অবসান ঘটে। নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে এবারের নির্বাচনী ময়দানে নামতে চলেছেন স্বপ্না বর্মন, যা এই কেন্দ্রের ভোট রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।