দেশেকে মাওবাদী মুক্ত করার জন্য ডেডলাইন ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সেই সময় সীমা পার হওয়ার পরেও অধরা থেকে গিয়েছেন বেশ কিছু মাওবাদী নেতা। এ বার পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন তাঁদেরই এক জন। সোমবার, তেলঙ্গনা পুলিশের (Telangana Police) কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ওই মাওবাদী কম্যান্ডার। ৪০ জন সঙ্গীকে নিয়ে তিনি পুলিশের আছে আত্মসমর্পণ (Maoist leader surrender) করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার যিনি সঙ্গীদের নিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন তাঁর নাম সোদি কেশালু (Sodi Keshalu)। মাওবাদীদের সংগঠন পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি (PLGA)-র অন্যতম শীর্ষ কম্যান্ডার ছিলেন তিনি।
জানা গিয়েছে, কেশালু ওরফে মাল্লা ছিলেন বস্তার অঞ্চলের PGLA-র অন্যতম নেতা। তেলঙ্গনা-ছত্তিসগড়ের সীমানায় (Telangana-Chhattisgarh border) মাওবাদী সংগঠনের ডেপুটি কম্যান্ডার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন তিনি। অন্যতম শীর্ষ মাওবাদী নেতা (Maoist leader) বদিসে দেবা-র পরেই ছিল তাঁর স্থান। আগেই আত্মসমর্পণ করেছেন দেবা ওরফে দেবান্না।
পুলিশের দাবি, সোমবার, ওই বস্তার এবং তেলঙ্গনা-ছত্তিসগড় সীমানায় থাকা মাওবাদীদের ডিভিশনাল এবং এরিয়া কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে অস্ত্র-সহ আত্মসমর্পণ করেন কেশালু। পুলিশের কাছে AK-47 ছাড়াও INSAS এবং SLR রাইফেলও জমা দিয়েছেন আত্মসমর্পণকারীরা।
বছর ৪০-এর কেশালুর মাথার দাম ছিল ২০ লক্ষ টাকা বলেও তেলঙ্গনা পুলিশ সূত্রে খবর। সঙ্গীদের নিয়ে, দুই রাজ্যের সীমানায় কারেগুট্টা পাহাড় (Karregutta hills) অঞ্চলে মূলত সক্রিয় ছিলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ৩১ মার্চের মধ্যেই দেশ থেকে সমস্ত মাওবাদীকে নির্মূল করা হবে বলে জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আত্মসমর্পণ করেছেন একাধিক মাওবাদী নেতা। সেই সঙ্গেই গত মাসেই একাধিক এলাকায় গুলির লড়াইয়ে বেশ কয়েকজন মাওবাদী নেতার মৃত্যুও হয়েছে। এখন দেশের মধ্যে মাত্র দু’টি অঞ্চলে মাওবাদীদের কয়েক জন সদস্য আছেন বলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর। তাদেরকেও সমাজের মূলপথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।