এই মুহূর্তে SIR পর্বের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ১৯টি ট্রাইব্যুনালের হাতে। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের নথি যাচাই করে মামলার নিষ্পত্তির দায়িত্বে ট্রাইব্যুনালই। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে বাংলার SIR মামলার শুনানি ছিল। সেই শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। উঠেছে নথি সংক্রান্ত বিষয়ও। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, ট্রাইব্যুনাল নতুন নথি দেখবে কি না, তা তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। কোর্ট উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে, কেউ যদি মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট জমা দেন, যা আগে যাচাই করা হয়নি। তা হলে এখন যাচাই করা যেতেই পারে। অর্থাৎ কমিশনের ঠিক করে দেওয়া নথিগুলির মধ্যে কোনও নথি আগে যাচাই করা হয়নি, তা ট্রাইব্যুনালে যদি কেউ জমা দেন, ট্রাইব্যুনাল মনে করলে তা যাচাই করতে পারে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে এ দিন মামলার শুনানি হয়। ট্রাইব্যুনাল নিয়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ১৯টি ট্রাইব্যুনালের একই রকম কাজের প্রক্রিয়া হওয়া দরকার। CJI-র নির্দেশ, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তিন জন প্রবীণ বিচারপতিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করবেন। ট্রাইব্যুনাল কী ভাবে কাজ করবে, তা বলে দেবে ওই কমিটি। ৭ এপ্রিলের মধ্যেই এই কমিটি ট্রাইব্যুনালের কাজের দিশা ঠিক করে দেবে।
এ দিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত নির্দেশ দেন, ট্রাইব্যুনালে নথি জমার পরে রসিদ দেওয়া হবে। অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দপ্তর থেকে রসিদ দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির সর্বশেষ চিঠি অনুযায়ী, ৬ এপ্রিল দুপুর ১২টা ৪ মিনিট পর্যন্ত ৫৯ লক্ষ ১৫ হাজারের বেশি কেস নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। ফলে যাচাইপর্বের পুরো কাজ শেষ হয়ে যাবে এ দিনই। দ্রুত সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের করতে হবে। তবে ডিজিটাল সিগনেচার করার জন্য পোর্টাল খোলা থাকবে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘আমরা আগে ভেরিফিকেশন পর্ব শেষ করতে চেয়েছিলাম। যাঁদের নাম আগে ক্লিয়ার হয়েছে, তাঁদের নাম আগে ভোটার তালিকাভুক্ত করা হবে। ট্রাইব্যুনাল তাদের হিয়ারিং চালিয়ে যাবে। আমরা আশা করতে পারি, আগামিকালের মধ্যে প্রথম পর্বের লিস্ট ফ্রিজ় করা হবে। ১০ তারিখের মধ্যে পরের পর্বের লিস্ট ফ্রিজ় করা হবে।’
SIR-শুনানি চলাকালীন আদালতে মালদার মোথাবাড়ির প্রসঙ্গও ওঠে। সাত বিচারককে আটকে রাখার প্রসঙ্গ তোলেন কমিশনের আইনজীবীরা। আইনজীবী ডিএস নাইডু সওয়াল করেন, ফেডারেল অফিশিয়ালদের নামে অপপ্রচার চলছে। বলা হচ্ছে, ‘উত্তরপ্রদেশ থেকে CRPF এসে আপনাদের মারবে, তৈরি থাকুন...।’
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মোথাবাড়িতে আটকে থাকা এক জুডিশিয়াল অফিসারের আর্তচিৎকারের অংশ তুলে ধরেন। পাল্টা রাজ্যের আইনজীবীও বলেন, ‘তা হলে আমাদেরও ভিডিয়ো দেখাতে হবে, প্রধানমন্ত্রী কী বলছেন।’ প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘রাজ্য প্রশাসন ব্যর্থ হলে আমরা দেখব কী করা যায়।’
আদালতে ওঠে শিল্পী নন্দলাল বসুর নাতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম বাদের প্রসঙ্গও। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘এই সমস্যার সমাধান করা হবে। ২৯ তারিখ, ভোটগ্রহণের আগেই।’ ১৩ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি।