• ‘এখনকার বামপন্থায় অনেক তফাৎ...’, বিজেপির মঞ্চে সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদের ছেলে
    এই সময় | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
  • বিজেপির রাজ্য সভাপতির সভায় প্রাক্তন সিপিএম সাংসদের ছেলে। চুঁচুড়ার ঘড়ি মোড়ে বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়ন ঘিরে হওয়া সভায় দেখা গেল আরামবাগের প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসুকে। সোমবারের সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। চুঁচুড়ার বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগের সঙ্গে হাত মেলাতে দেখা যায় সৌম্য বসুকে।

    সৌম্য এক সময়ে বামপন্থী ছাত্র রাজনীতি করেছেন। এসএফআই, ডিওয়াইএফআই-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাবা অনিল বসু বাম আমলে সিপিএমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা ছিলেন। সিপিএম-এর টিকিটে আরামবাগ থেকে ৬ বার সাংসদ হয়েছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে শেষ বার আরামবাগ থেকে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন। সেই সময়ে ছয় লক্ষ ভোটে, রেকর্ড মার্জিনে জিতেছিলেন তিনি। সিপিএম-এর বিরুদ্ধে ব্যাপক ভোটচুরি বা রিগিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে করা কিছু মন্তব্যের জন্য চরম সমালোচিত হয়েছিলেন অনিল বসু। ২০১২ সালে সিপিএম তাঁকে বহিষ্কার করে। ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর মারা যান অনিল বসু। দল থেকে বহিষ্কার করলেও তিনি অন্য কোনও দলে নাম লেখাননি। আজীবন নিজেকে সিপিএম হিসেবেই পরিচয় দিয়েছেন।

    সেই অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসু অবশ্য সিপিএমের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, ‘বাবা সাংসদ, বিধায়ক বা মন্ত্রী থাকলেই সেই দল করতে হবে এমন কোনও কারণ নেই। প্রত্যেক মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার আছে।’ এ দিন শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তারপরে সৌম্য বলেন, ‘উনি বলেছেন প্রার্থীকে জেতাতে হবে। প্রার্থী জিতবে, সুবীর নাগের সঙ্গে আমি আছি।’

    তিনি এক সময়ে বাম রাজনীতি করেছেন, তারপরে ওই দলের মতাদর্শের সম্পূর্ণ উল্টো মেরুতে থাকা বিজেপির সঙ্গে হাত মেলালেন কেন? সৌম্যর উত্তর, জ্যোতি বসু, অনিল বিশ্বাস, সুভাষ চক্রবর্তীর বামপন্থা আর এখনকার বামপন্থায় অনেক তফাৎ। ২০০৫ পর্যন্ত আমিও সক্রিয় রাজনীতি করেছি। আগে বামপন্থা ছিল গরিব মেহনতি মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা। এখন বামপন্থা হলো মধ্যবিত্ত শ্রেণির, চকচকে এলিটের প্রতিনিধি।’

  • Link to this news (এই সময়)