• ঢাক-ঢোল পিটিয়ে মনোনয়ন পেশ প্রার্থীদের, নাম তোলার জন্য ও দিকে লম্বা লাইন ভোটারদের
    এই সময় | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
  • একদিকে বাজনা বাজিয়ে হইহই করে মনোনয়ন জমা দিতে আসছেন প্রার্থীরা। ব্যান্ডপার্টি, তাসা, স্লোগানে স্লোগানে ছয়লাপ চারদিক। অন্যদিকে রাস্তার ধারে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে একদল। মুখ কাচুমাচু। কপালের ঘাম মুছছেন। চোখে-মুখে উদ্বেগ, বিরক্তিও— ‘এত বছর ধরে ভোট দিলাম, আজ বলছে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা?’ উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে জেলাশাসকের দপ্তরে সোমবার সকাল থেকে একের পরে এক প্রার্থীর যাওয়া-আসা। মনোনয়ন জমা দিতে এসেছেন তাঁরা। এ দিকে সেই জেলাশাসকের দপ্তরের বাইরের রাস্তায় লম্বা লাইন। ট্রাইব্যুনালে নাম তুলতে এসেছেন বহু মানুষ। সোমবার এমনই চিত্র উঠে এল।

    সকাল থেকেই লম্বা লাইন। জেলাশাসকের অফিস খোলার বহু আগেই এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন ফিরোজ, ওসমান, সন্ধ্যা, তারকরা। কেউ এসেছেন নিজের নথি জমা দিতে। কেউ আবার বাবা বা মায়ের জন্য এসেছেন।

    ফিরোজ আলি মণ্ডলের বাড়ি মধ্যমগ্রামে। তাঁর নাম তালিকায় থাকলেও, বাদ পড়েছে বাবা, মায়ের নাম। সকাল থেকে গরমের মধ্যে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি। ইকোপার্কের কাছে যাত্রাগাছিতে বাড়ি ওসমান মণ্ডলের। পেটের গোলমাল থেকে মারাত্মক শরীর খারাপ করে ফেলেছিল গত সপ্তাহে। হাসপাতালে ভর্তিও ছিলেন। সেই ওসমানও সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে।

    ওসমান আলির দাবি, ২০০২ সালের লিস্টে তাঁর নাম আছে। এমনকী পাসপোর্টও আছে। তার পরেও নাম ডিলিট করে দিয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছুটি হয়েছে রবিবার। আজই ৪-৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে। শরীর অস্থির করছে, তবু লাইন ছেড়ে যাওয়ার উপায় নেই।

    বামনগাছির সন্ধ্যা বিশ্বাসের নাম বাদ। বাদ গিয়েছে ছেলের নামও। তিনি জানান, সমস্ত কাগজ জমা দিয়েছিলেন। তার পরেও নাম বাদ পড়েছে। আবারও সেই সব কাগজ নিয়েই এসেছেন ট্রাইব্যুনালে।

    অশোকনগর, হাড়োয়া, দেগঙ্গা, বাদু থেকেও লোক এসেছেন বহু। কম-বেশি সকলেই বিরক্ত নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায়। তাঁরা বলছেন, এতগুলো ভোট হলো। ভোটে জিতে সকলে নেতা-মন্ত্রী হলেন। এখন সেই ভোটারদের নামই বাদ? সকাল থেকেই কেউ অফিস কামাই করে, কেউ আবার কলেজ-ইউনিভার্সিটির ক্লাস বাদ দিয়ে, কেউ বা সংসারের যাবতীয় কাজ ফেলে ছুটে এসেছেন লাইন দিতে। তাঁরা বলছেন, দুঃখ একটাই— বৈধ ভোটার হলেও তালিকা থেকে নাম বাদ।

    ভোটারদের ভাগ্য এখনও ঝুলে থাকলেও এ দিন জেলাশাসকের দপ্তরে ভিড় করেছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দিতে এসেছেন, মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষ, বারাসতের সব্যসাচী দত্ত, অশোকনগরের নারায়ণ গোস্বামী, হাবরার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, দেগঙ্গার বিজেপি প্রার্থী তরুণকান্তি ঘোষেরা।

  • Link to this news (এই সময়)