আজকাল ওয়েবডেস্ক: সপ্তাহের প্রথম দিনে ব্যস্ত কর্মসূচি তৃণমূলনেত্রী মমতা ব্যানার্জির। সোমবার প্রথম সভাটি ছিল বর্ধমানের পূর্বস্থলীর সমুদ্রগড় হাই স্কুলে। দ্বিতীয় সভাটি ছিল নদিয়ার বেথুয়াডহরিতে। তৃতীয় সভাটি ছিল শান্তিপুর স্টেডিয়ামে। সেই সভা থেকেই আত্মবিশ্বাসী মমতার ঘোষণা, “আমি মানুষের চোখমুখ যদি বুঝে থাকি, এবার আরও বেশি সিটে জিতবে তৃণমূল।”
সোমবার শান্তিপুরের তৃণমূল প্রার্থী ব্রজকিশোর গোস্বামীর সমর্থনে শান্তিপুর স্টেডিয়ামে সভা করেন মমতা। এদিনের সভা থেকে থেকে জোরালো বার্তা দিলেন তিনি। এর পাশাপাশি, বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, “আমাকে মারার চেষ্টা করছে বিজেপি। কিন্তু আমি জন্মেছি বীরের মতো, মরবো বীরের মতো।” তাঁর এই মন্তব্য সভাস্থলে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে প্রবল সাড়া ফেলে।
বিরোধীদের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “আগে যারা সিপিএম করতেন, তারাই এখন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।” তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, “বাম বা রামের কথায় কান দেবেন না।” ইঙ্গিত করেন যে বিরোধীরা মানুষের স্বার্থে কাজ করছে না। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসই একমাত্র দল যারা রাজ্যের উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে।
শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ির প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তৃতায়। শান্তিপুর ও ফুলিয়ার তাঁতশিল্পের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এখানে তৈরি শাড়ির সুনাম দেশজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।” তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন। মমতা জানান, যখনই তিনি শান্তিপুরে আসেন, অন্তত একশো পিস কাপড় নিয়ে যান। এমনকি তিনি জানান, তাঁর সফরের কথা শুনে অভিষেক ব্যানার্জির মাও তাঁকে শান্তিপুরের শাড়ি নিয়ে আসার অনুরোধ করেছেন। এছাড়াও উন্নয়নমূলক কাজের প্রসঙ্গে তিনি শান্তিপুর কালনা সেতুর কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রায় ১১ কোটি টাকার ব্যয়ে এই সেতুর কাজ শুরু হয়েছে, যা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে।
ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, যেসব এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস বেশি ভোটে জয়ী হয়েছে, সেই সব জায়গায় অনেক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। সবশেষে আত্মবিশ্বাসের সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস আগের চেয়ে আরও বেশি আসন পেয়ে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফিরবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি এবং তাঁর দল আগামী নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী।