• রোজ কত জনের নথি যাচাই করলেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা?
    আজকাল | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর)-এর পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে দেখা গেল প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য যাচাই করতে পড়শি রাজ্যগুলি থেকে বিচারকদের নিয়োগ করে দায়িত্ব দেওয়া হল। তারপর থেকে দফায় দফায় প্রকাশিত হয়েছে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতে কমিশন জানিয়েছে, সোমবার বেলা ১২টা অবধি নিষ্পত্তি হয়েছে ৫৯.১৫ লক্ষ্য ভোটারদের নাম। তালিকায় যুক্ত হয়েছে প্রায় ৫৫ শতাংশ। এরপরেই প্রশ্ন উঠছে, ৯০০ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন। রোজ কত জন ভোটারের তথ্য যাচাই করেছেন তাঁরা।

    এসআইআর চলাকালীন, তালিকা থেকে ভোটার বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে ওঠা আপত্তির নিষ্পত্তি করতে গিয়ে প্রায় ৯০০ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক ২৭টি কর্মদিবসের মধ্যে ৫২ লক্ষ আপত্তির নিষ্পত্তি করেছেন। পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৫২ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। অর্থাৎ, দৈনিক ১.৯২ লক্ষ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। 

    যদি ধরে নেওয়া হয় যে প্রত্যেক বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এই সময়কালে শুধুমাত্র কর্মদিবসেই কাজ করেছেন (রবিবার, মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার এবং সরকারি ছুটির দিনে কাজ করেননি), তাহলে এক একজন আধিকারিক প্রতিদিন আনুমানিক ২১৪টি আপত্তির নিষ্পত্তি করেছেন। ধরে নেওয়া যায়, তাঁরা দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করতেন, তাহলে প্রতি ঘণ্টায় ১৮টি মামলার নিষ্পত্তি।

    যদি তাঁরা ৪টি সরকারি ছুটি, ৫টি রবিবার, একটি দ্বিতীয় শনিবার এবং দু’টি চতুর্থ শনিবার (এই দিনগুলিতে সাধারণত জেলা বিচার বিভাগ এবং কলকাতা হাই কোর্টের ছুটি থাকে) সহ মোট ৩৯ দিন কাজ করতেন, তাহলে দৈনিক মোট নিষ্পত্তির হার হত ১.৩৩ লক্ষেরও বেশি। অর্থাৎ, প্রত্যেক বিচারবিভাগীয় আধিকারিক প্রতিদিন ১৪৮টিরও বেশি আপত্তি নিষ্পত্তি করতেন, অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১২টি মামলা।

    পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ৪৩ দিনের মধ্যে এই ৯০০ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ৭ এপ্রিলের মধ্যে সব মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সোমবার সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, অল্প সংখ্যক ভোটারের নথি যাচাই হওয়া বাকি। এরপরেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কমিশন আজ রাতেই পুরো তালিকা প্রকাশ করতে পারবে। শুধুমাত্র ডিজিটাল সিগনেচার আপলোড করার জন্য পোর্টাল ৭ এপ্রিল পর্যন্ত খোলা থাকবে। গত ৪ এপ্রিল থেকে কাজ করা শুরু করে দিয়েছে ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে তৈরি অ্যাপালেট ট্রাইব্যুনালও।
  • Link to this news (আজকাল)