এই সময়: পাঁচ রাজ্যে ভোট। জোরকদমে চলছে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ। অথচ অভিযোগ উঠেছে, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে ভোটকর্মীদের ভাতা কম দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের দিন টিফিনের টাকাও দেওয়া হচ্ছে না। ট্রেনিং সেন্টারে চা–বিস্কুট পাওয়া যাচ্ছে না। এই সব অভিযোগ সামলাতে হিমশিম অবস্থা প্রশিক্ষক ও সেক্টর অফিসারদের। এ নিয়ে জোর আলোচনায় অনেক ক্ষেত্রে নতুন ভোটকর্মীরা প্রশিক্ষণের কোনও সুযোগই পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ।
মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠছে, নির্বাচন কমিশনের ২০২৫–এর ৮ অগস্টের নির্দেশিকা মেনে কেন ভাতা দেওয়া হচ্ছে না? কেন অন্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে ভোটকর্মীদের ভাতা কম? বর্ধমান টাউন স্কুলের শিক্ষক তথা ভোটকর্মী অভিজিৎ সেনগুপ্ত বলেন, ‘একই সঙ্গে অন্য যে সব রাজ্যে ভোট হচ্ছে, সেখানে কমিশনের গত বছরের নির্দেশিকা অনুযায়ী ভোটকর্মীদের পারিশ্রমিক ও খাদ্য ভাতা দেওয়া হচ্ছে। কেরালায় আবার এর সঙ্গে টিএ এবং ডিএ দেওয়া হচ্ছে। সেখানে ভোটকর্মীদের পারিশ্রমিক ও ভাতা অনেকটাই বেশি। একজন প্রিসাইডিং অফিসার কেরালায় পাবেন ৪,২০০ টাকা। তামিলনাড়ুতে ৩০০০ টাকা। অথচ পশ্চিমবঙ্গে পাবেন মাত্র ২১৭০ টাকা! অন্যান্য ক্ষেত্রেও একই বঞ্চনা।’
রবিবার ছুটির দিনেও কেন ট্রেনিং ফেলা হচ্ছে সেই প্রশ্নও উঠেছে। অভিযোগ, প্রশিক্ষণের দিন টিফিনের টাকাও দেওয়া হচ্ছে না! শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী দাবি করেন, ‘প্রশিক্ষণের দিনে ফুড অ্যালাওয়েন্স হিসেবে ৫০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও, রাজ্যের সিইও দপ্তরের নোটিসে মাত্র ১৭০ টাকা বলা হয়েছে। ভোটের আগের দিনই ভোটকর্মীদের ভোরে বেরিয়ে যেতে হয়। অথচ সেদিন ফুড অ্যালাওয়েন্স বরাদ্দই হয়নি! কোনও ভাবেই তা কমানো অথবা বাতিল করা চলবে না।’ রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগীর জবাব, ‘কমিশনের নির্দেশ মেনেই ভোটকর্মীদের ভাতা জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে পাঠিয়েছি। তাঁরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’
এখানেই শেষ নয়। যে ভোট নিয়ে কমিশনের এত কড়াকড়ি, সেই ভোট পরিচালনার জন্য বহু জায়গায় দ্বিতীয় দফার প্রশিক্ষণ হয়ে গেলেও ভোটকর্মীদের অনেককেই স্পেশাল বুকলেট বা হ্যান্ডবুক দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। কোথাও আবার প্রিসাইডিং অফিসারকে দিলেও ফার্স্ট পোলিং অফিসারকে দেওয়া হয়নি। ভোটের আগের দিন ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার থেকে এই সব নথি দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
অনেক শিক্ষক–শিক্ষিকাই এ বার ভোটে প্রথম প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পেয়েছেন। কিন্তু তাঁদের প্রশিক্ষণ আদৌ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ প্রশিক্ষণের সময়ে এই সব আলোচনাতেই দীর্ঘক্ষণ কেটে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে অরিন্দম নিয়োগী বলেন, ‘আমরা এ বার পর্যাপ্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। মপ–আপ ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি পরীক্ষাও নেওয়া হচ্ছে। কোনও ভোটকর্মীর অসুবিধা হলে, আমরা তিনের বদলে পাঁচ বারও প্রশিক্ষণ দিতে তৈরি।’