বন্ধুরা মিলে ঘুরতে যাবেন। পাহাড় নয়, সমুদ্রই সকলের পছন্দ। একসঙ্গে সবাই বলে উঠলেন, গোয়া। এই ধরনের অ্যাডভেঞ্চারের কথা বললে মাথায় প্রথমে গোয়ার নাম আসে। কিন্তু ভারতের মানচিত্রে এমন আরও অনেক লুকনো রত্ন রয়েছে, যা গোয়ার চেয়েও বেশি শান্ত, নির্মল এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য আদর্শ। নীল জলরাশি আর রুপোলি বালুচরের খোঁজে এ বার আপনার গন্তব্য হতে পারে ভারতের এই ৫ সমুদ্রসৈকত।
আরব সাগরের তীরে অবস্থিত ভারকালা সমুদ্রসৈকত। এর বিশেষত্ব হলো সুউচ্চ ক্লিফ বা পাহাড়। সমুদ্রের ঠিক ধারেই খাড়া পাহাড়ের সারি এই জায়গাকে এক অনন্য রূপ দিয়েছে। পাহাড়ের উপর ছোট ছোট ক্যাফে আর হিপ্পি কালচারের ছোঁয়া এই জায়গাকে বিদেশি পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয় করে তুলেছে। যাঁরা যোগব্যায়াম বা আধ্যাত্মিকতা পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ভারকালা সেরা গন্তব্য।
পাসপোর্ট, ভিসা ছাড়াই মলদ্বীপের স্বাদ পেতে হলে আসতে হবে এই সৈকতে। নীল, স্বচ্ছ জলরাশি আর সাদা বালির তীরে বসে সময় কেটে যাবে চোখের নিমেষে। জল এখানে এতটাই স্বচ্ছ যে উপর থেকেই প্রবাল প্রাচীর (Coral Reefs) দেখা যায়। স্কুবা ডাইভিং বা স্নরকেলিংয়ের জন্য বঙ্গারাম এবং আগাত্তি দ্বীপ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে জলক্রীড়া প্রেমীদের কাছে।
ভারতের বুকে এক টুকরো ফ্রান্সের স্বাদ পেতে হলে অন্তত একবার আসতে হবে পুদুচেরিতে। এখানকার সমুদ্রতটগুলি গোয়ার মতো কোলাহলপূর্ণ নয়। বিকেলে হাঁটাচলার জন্য প্রমেনাড বিচ (Promenade Beach) এবং বোট রাইডের জন্য প্যারাডাইস বিচ অত্যন্ত জনপ্রিয়। কলোনির আঁকেবাঁকে রংবেরঙের বাড়ি আর ফরাসি স্থাপত্য আপনার মনে থেকে যাবে আজীবন।
সমুদ্র এবং পাহাড়, একসঙ্গে দুটোই পাবেন গোকর্ণ এলে। সমুদ্রের পাশাপাশি যাঁরা পাহাড়ে ট্রেকিং করতে ভালোবাসেন, এই জায়গা তাঁদের জন্য আদর্শ। এখানকার হাফ মুন বিচ বা প্যারাডাইস বিচে পৌঁছতে হলে আপনাকে ছোট ছোট পাহাড় ডিঙিয়ে যেতে হবে, যা বেশ রোমাঞ্চকর। শহুরে কোলাহল পেরিয়ে শান্ত, স্নিগ্ধ সৈকতের মনোরম দৃশ্য ভোলার নয়।
মুম্বই বা পুনের খুব কাছে অবস্থিত আলিবাগ সপ্তাহান্তের ছুটির জন্য চমৎকার। সমুদ্রের মাঝখানে অবস্থিত কোলাবা ফোর্ট (Colaba Fort) পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। জোয়ারের সময় এই কেল্লায় যেতে হলে নৌকায় চড়তে হয়। কিন্তু ভাঁটার সময় আবার হেঁটে হেঁটেই যাওয়া যায়। এ ছাড়া ওয়াটার স্পোর্টসের জন্য নগাঁও বিচও বেশ বিখ্যাত।