এই সময়, পুরুলিয়া: ছৌ-মুখোশের গ্রাম চড়িদা। পাহাড় ঘেরা ঝালদা। রয়েছে জঙ্গলও। সব নিয়েই পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি পর্যটকদের পছন্দের জায়গা। রাজনীতির ময়দানেও চর্চিত নাম বাঘমুন্ডি। অতীতের একের পর এক মাওবাদী হত্যাকাণ্ড, গত পুরভোটের ঠিক পরেই ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলার তপন কান্দুকে খুন। সবই খবরের শিরোনামে নিয়ে আসে এই বিধানসভা কেন্দ্রকে। এ বারও বাঘমুন্ডি নিয়ে মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই।
২০০১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত এই আসনে জিতে এসেছেন কংগ্রেস নেতা নেপাল মাহাতো। ২০২১-এ প্রথম বারের জন্য কংগ্রেসকে হারিয়ে বাঘমুন্ডি জিতে নেয় তৃণমূল। নেপাল চলে যান তৃতীয় স্থানে। সে বার এই আসনটি সঙ্গী আজসুকে ছেড়ে দিয়েছিল বিজেপি। এ বার অবশ্য বাঘমুন্ডিতে বিজেপি-ই লড়ছে, দলের প্রার্থী রহিদাস মাহাতো। তৃণমূলের প্রার্থী বিদায়ী বিধায়ক সুশান্ত মাহাতোই। কংগ্রেসের হয়ে আবার লড়াইয়ের ময়দানে নেপাল মাহাতো। এই আসনে বাম প্রার্থীও রয়েছেন, ফরওয়ার্ড ব্লকের পরিমল কুমার।
আসনটি ধরে রাখতে তৃণমূল মরিয়া। জনসভা করে গিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং জেলা বিজেপি সভাপতি শঙ্কর মাহাতোর বাড়ি বাঘমুন্ডিতে বলে এই আসনটি বিজেপির কাছে প্রেস্টিজ ফাইট। তৃণমূলের প্রচারে যখন এলাকার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে, তখন বিরোধীরা সেই উন্নয়নের দাবিকেই খারিজ করছে। বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী বললেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় ভিড়ই বলে দিয়েছে, কী হতে চলেছে। এলাকায় রাস্তা, জল, আলো থেকে পর্যটনে কিছুর খামতি নেই। পর্যটনের মাধ্যমে বেড়েছে কর্মসংস্থানও। নির্বাচনে তৃণমূলের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা।'
বিপরীতে বিজেপি প্রার্থীর বক্তব্য, 'তৃণমূলের বিধায়ক শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভাতা দেখিয়ে আর পার পাওয়া যাবে না। জিতবে পদ্ম।' কংগ্রেসের প্রার্থীও বললেন, 'তৃণমূল বিধায়ককে পাঁচ বছরে দেখাই যায়নি এলাকায়। আবার বাঘমুন্ডি ফিরে পাবে কংগ্রেস।' ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী বাম জমানার কথা উল্লেখ করে বললেন, 'মানুষ ভেবেছিলেন, তৃণমূল এলে পরিবর্তন হবে অনেক। বাস্তবে কিছুই হয়নি। যুবকদের স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে। বামফ্রন্টই একমাত্র পথ উন্নয়নের।'
এই দাবি ও পাল্টা দাবির আবহে কী বলছেন ভোটাররা? তৃণমূল পরিচালিত ঝালদা পুর এলাকার বাসিন্দা অজয় কান্দু, মঙ্গলু কর্মকাররা বললেন, 'সেই কবে থেকে শুনছি সুবর্ণরেখা জলপ্রকল্প হবে। আজও হয়নি। গরমে তীব্র সমস্যা হয় জলের।' সরকারি চিকিৎসা পরিষেবা নিয়েও রয়েছে ক্ষোভ। হিলটপের বাসিন্দা সুরেশ টুডু, দিপালি হেমব্রমদের কথায়, 'একটু বড় সমস্যা হলেই হয় রাঁচি নয় জামশেদপুর যেতে হয়। গরিব মানুষের খুব সমস্যা হয়।' চড়িদায় ছৌ-মুখোশের দোকান রয়েছে প্রায় একশটি পরিবারের। তাঁদের মধ্যে তাপস পাল, গণেশ সূত্রধররা বললেন, 'ছৌ নাচের শিল্পীরা ভাতা পেলেও আমরা যাঁরা ছৌ-মুখোশ বানাই, কিছুই পাই না।' বাঘমুন্ডি লজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুজিত কুমার বললেন, 'পর্যটক টানার জন্য সরকারের তরফে কিছু করা হয়নি। একটা রোপওয়ে হওয়ার কথা ছিল, হয়নি।' ঠিকই যে, অতি সম্প্রতি যুবশ্রীর ভাতা পেয়েছেন এলাকার বিরাট সংখ্যক যুবক-যুবতী। সেই সঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বেড়েছে টাকা। তবে ভাতার সঙ্গে সঙ্গে কাজের দাবি রয়েছে তরুণদের।