নৈহাটি থানার আইসি মহাবীর বেরাকে (suspension of Naihati Police Station IC Mahabir Bera) সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission on India)। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ে নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যানকে তিনি পুলিশের গাড়িতে করে মহকুমা শাসকের দপ্তরে পৌঁছে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এই নিয়ে কমিশনে অভিযোগ জানায় বিজেপি (BJP)। এর পরে সোমবার রাতেই তাঁর সাসপেনশনের নির্দেশিকা জারি করে কমিশন।
সোমবার ছিল প্রথম দফার ভোটের (২৩ এপ্রিল) মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। দুপুরে ব্যারাকপুরের মহকুমা শাসকের দপ্তরে মনোনয়ন জমা দেন নৈহাটির তৃণমূল প্রার্থী সনৎ দে। সেই সময়ে উপস্থিত ছিলেন নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়ও। কিন্তু অভিযোগ, তিনি যে গাড়িটি করে মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়েছিলেন, সেটি পুলিশের গাড়ি। তাঁকে ওই গাড়িতে নৈহাটি থানার আইসি মহাবীর বেরা পৌঁছে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পুলিশের গাড়ি থেকে অশোকের নামার একটি ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় অনলাইন) X হ্যান্ডলে পোস্ট করে বিজেপি নেতা অর্জুন সিং দাবি করেন, ‘রাজ্য পুলিশ যাতে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করে, তার সব রকম চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তাদের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান যে গাড়িটি থেকে নামছেন, সেটি ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট ব্যবহার করে থাকে।’ এর পরেই নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের জন্য ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
এর পরেই রাতে সাসপেনশনের নোটিস জারি করে কমিশন। নির্দেশিকায় লেখা হয়েছে, ‘নৈহাটি থানার আইসি মহাবীর বেরার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। আপাতত তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।’ এই সময়ে তিনি মূল বেতনের অর্ধেক টাকা পাবেন, সঙ্গে অন্য ভাতাও মিলবে বলে জানানো হয়েছে নির্দেশিকায়। আপাতত এসআই প্রকাশ ধাড়াকে নৈহাটি থানার আইসি হিসেবে নিয়োগ করেছে কমিশন।
এর আগে বাসন্তী বাজারে বিজেপি-তৃণমূল অশান্তির ঘটনায় বাসন্তী থানার আইসি অভিজিৎ পালকে সাসপেন্ড করেছিল কমিশন। তবে শুধু পুলিশ নয়, ভোটকর্মীদের ট্রেনিং সেন্টারে প্রটোকোল বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে গত ৩১ মার্চ হাঁসখালির বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যকেও সাসপেন্ড করা হয়। আবার তৃণমূলের হয়ে প্রচারের অভিযোগে গত ৩ এপ্রিল সাসপেন্ড করা হয়েছিল খণ্ডঘোষের জয়েন্ট বিডিও জ্যোৎস্না খাতুনকেও।