মালদার মোথাবাড়ির ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন রাজ্য়ের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা। দেশের প্রধান বিচারপতি তাঁকে প্রশ্ন করেন, 'আপনি প্রধান বিচারপতির ফোনও ধরেন না?'
কড়া নির্দেশ
দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আমরা কি এটা ধরে নেব, রাজ্য রাজনীতি সচিব পর্যায়ে প্রবেশ করেছে?' পাশাপাশি বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, 'কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমতা চান। কলকাতা হাইকোর্ট যখন পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তখন তিনি বলছেন যে আমি কী করব? এটাই জেলার পরিস্থিতি? গোয়েন্দা রিপোর্ট কোথায়? সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।'
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো সোমবার শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব, DGP এবং মালদার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা বলেন, 'আমার কাছে কোনও ফোন আসেনি। আমি দুপুর ২টো থেকে সাড়ে ৪টে পর্যন্ত ফ্লাইটে ছিলাম। আমি নম্বর দিয়েছি।' বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, 'যে নম্বর আপনি দিয়েছেন সেটা বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে।' তখন মুখ্যসচিব বলেন, 'এই নম্বর বেশি সুরক্ষিত।' বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, 'এত বেশি সুরক্ষিত যে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতো সাধারণ ব্যক্তি আপনাকে ফোন করে পান না। আপনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না। সবাই অন্ধকারে থাকেন।' যোগাযোগের এই বিচ্ছিন্নতাই রাজ্যে এত বিপুল পরিমাণ জটিলতা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের প্রধান বিচারপতি। তিনি আরও বলেন, 'এ কেমন ধরনের বিশ্বাসযোগ্যতা? আমলাতন্ত্রের এই একগুঁয়ে চরিত্রের মুখোমুখি আমরা অন্যান্য রাজ্যেও হচ্ছি।'
মালদার ঘটনা প্রসঙ্গে মন্তব্য
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, 'এটা আবেগতাড়িত পদক্ষেপ নয়। পূর্বপরিকল্পিত এবং এর ষড়যন্ত্রের শিকড় অনেক গভীরে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে হবে।'