• ৯০ লাখের বেশি বাদ, রাত ১২টার পরে ফ্রিজ ভোটার তালিকা, কারা ভোট দিতে পারবেন না?
    আজ তক | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
  • সোমবার রাতে ১২তম অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে ফেলেছে কমিশন। বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম নিষ্পত্তির কাজ শেষ। সুপ্রিম কোর্টের শুনানি পর্যন্ত ২৬ হাজারের নাম বাকি ছিল, যা রাত ১২টার মধ্যে নিষ্পত্তি করে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। মধ্যরাতে কমিশন যে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করেছে, সেটিই ফ্রিজ হয়ে গেল। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট যদি নতুন করে কোনও নির্দেশ না দেয় তবে এই পর্যন্ত তালিকায় থাকা ভোটারেরাই ভোট দিতে পারবেন এবারের নির্বাচনে। ভোটার তালিকায় আরও নতুন নাম উঠবে কি না, তা এবার নির্ভর করছে দেশের শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণের উপরই। 

    প্রতি ভোটেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের পরই ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যায়। সোমবারই ছিল প্রথম দফার নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। SIR প্রক্রিয়া হলেও, হিসেব মতো নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ীই তালিকা ফ্রিজ হয়েছে। 

    কত জনের নাম বাদ পড়ল?
    মোট বিবেচনাধীন ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার। তাঁদের মধ্যে বাদ পড়েছেন ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রথম চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়েছিল ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম। মোট বাদ পড়ার সংখ্যা দাঁড়াল (DELETED), ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫। জানা যাচ্ছে, ৫৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫১২ জনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি ২২ হাজার ১৬৩ জন ভোটারের নামের নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও সেগুলিতে ই-স্বাক্ষর হয়নি। ওই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাদ পড়া নামের তালিকায় আরও কিছু নাম যুক্ত হতে পারে।

    তালিকায় কারা? 
    SIR প্রক্রিয়া শেষে গত ২৮ ফ্রেব্রুয়ারি প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। সেই তালিকায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ছিল 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন'। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ‘চূড়ান্ত’ করে দেওয়া বিচারকেরাই বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের তথ্য নিষ্পত্তি করেছেন। তথ্য যাচাই করে ঠিক করেছেন ‘যোগ্য’ এবং ‘অযোগ্য’ ভোটার। ‘যোগ্য’ ভোটারেরা স্থান পেয়েছেন ভোটার তালিকায়। আর ‘অযোগ্য’দের নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। 

    বিচারকদের বাদ দেওয়া ভোটারেরা কি ভোট দিতে পারবেন না? 
    এই প্রশ্ন উঠেছে সর্বত্রই। সরব হয়েছে শাসকদল তৃণমূল। শুনানিতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশ দেয়। বলা হয়,  বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের তথ্য যাচাই করে বিচারকেরা যাঁদের নাম বাদ দিচ্ছেন, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মতো ধাপে ধাপে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। সোমবার ১২তম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হয়। 

    যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইন এবং অফলাইন দু’ভাবে ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন বাদ পড়া ভোটারেরা। তবে এখনও পর্যন্ত কত জন ভোটার ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পেরেছেন, সেটাও স্পষ্ট নয়। যদিও বেশ কিছু কেস ইতিমধ্যেই ট্রাইবুনালে উঠেছে এবং ভোট দেওয়ার ছাড়পত্রও দেওয়া হয়েছে কোনও কোনও আবেদনকারীকে। 

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এটাই আপাতত এ বারের ভোটের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। কিন্তু কারা আছেন এই ভোটার তালিকায়? ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় যাঁদের নাম ছিল, তাঁরা তো রয়েছেনই। এ ছাড়াও, কয়েক দিন যাবৎ অনেকে ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ পূরণ করেছেন। তথ্য যাচাই করে তাঁদের মধ্যে যাঁরা ‘যোগ্য’ তাঁরাও স্থান পেয়েছেন চূড়ান্ত তালিকায়। এ ছাড়াও, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা যে সব ভোটারকে বিচারকেরা ‘যোগ্য’ হিসাবে গণ্য করেছেন, তাঁরাও থাকছেন। 

    কিন্তু, গত ৩০ মার্চের পর কেউ যদি ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করেন, তবে তা এ বারের ভোটের জন্য গ্রাহ্য নয়। আবার  ট্রাইবুনাল যদি কোনও ভোটারকে যোগ্য মনে করে, তবে তাঁদের নাম সোমবার পর্যন্ত ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল। যদিও সোমবার ১২টার পর থেকে আপাতত সেই সুযোগও আর থাকছে না। 

    মঙ্গলবার যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করবেন তাঁদের কী হবে?
    প্রশ্ন উঠছে, মঙ্গলবার থেকে যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করবেন বা যাঁদের নিষ্পত্তি হবে, তাঁরা কি এ বারের ভোটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন? নিয়ম অনুযায়ী, সেই সুযোগ নেই। তবে পরের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট যদি এ সংক্রান্ত নতুন কোনও নির্দেশ দেয়, তা হলে পরিস্থিতির বদল হতে পারে। সবটাই নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের উপরই।

    সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এ-ও জানায়, কেউ যদি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তার মানে এই নয় যে, তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে কেড়ে নেওয়া হবে।  

     
  • Link to this news (আজ তক)