• মাটিতে নামুন, কালিয়াচকের ঘটনায় মুখ্যসচিবকে বলল ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট
    বর্তমান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘আপনি তো অনেক উপরে উঠে গেছেন দেখছি। মাটিতে নামুন!’ মালদহের কালিয়াচকের ঘটনায় সোমবার এমনই মন্তব্যে নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত মুখ্যসচিব দুষ্ম্যন্ত নারিওয়ালের সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। বাদ গেলেন না কমিশন নিযুক্ত রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তাও। সাত জুডিসিয়াল অফিসারকে আটকে রাখার মতো ঘটনায় প্রবল ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছে। এদিন এসআইআর মামলার শুনানি শেষ করেই বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ অবিলম্বে ঘটনার তদন্তভার এনআইএ’কে নেওয়ার নির্দেশ দিল। পাশাপাশি প্রবল ভৎর্সনা করল কমিশন নিযুক্ত মুখ্যসচিব এবং ডিজিপিকে। তাঁরা হাওড়ায় নবান্ন থেকে পাশাপাশি বসে ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। 

    তাঁদের দেখেই দেশের প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, সেদিন কী হয়েছিল যে, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ফোন ধরেননি? যদিও কমিশন-নিযুক্ত মুখ্যসচিব তা অস্বীকার করেন। বলেন, আমার ফোনে কোনো কল আসেনি। গত ১ এপ্রিল আমি দিল্লিতে একটি মিটিংয়ে গিয়েছিলাম। দুপুর দুটো থেকে সাড়ে চারটে পর্যন্ত বিমানে ছিলাম। আমার ফোনের লাইন অত্যন্ত ভালো। সুইচ অফও থাকে না। আমার মোবাইলে কোনো ফোন আসেনি। যা শুনে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী অসন্তুষ্ট হন। বলেন, দুপুরে নয়। আপনাকে রাতে ফোন করা হয়েছিল। তাই বলছি, আপনি এত উপরে উঠে গেছেন যে কলকাতা হাইকোর্টের প্রশাসন বা প্রধান বিচারপতির মতো সাধারণের ফোন ধরছেন না?

    পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কমিশন নিযুক্ত মুখ্যসচিব আমতা আমতা করে করে বলেন, মিস কমিউনিকেশননের জন্য আমি দুঃখপ্রকাশ করছি। যদিও প্রধান বিচারপতির তোপ, সবার আগে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চান। আপনার প্রশাসন, পাশে বসা ডিজি পুলিশের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। সম্পূর্ণ ব্যর্থ। জয়মাল্য বাগচী বলেন, আপনার এই মিসকমিউনিকেশনের জন্য রাজ্যে সমস্যা হল। কমিশনকেও কিছু জানাননি। আপনাদের এ ধরনের আচরণ মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়। দুপুর সাড়ে তিনটে থেকে আটকে রয়েছেন সাত অফিসার। রাত সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত ডিজিপি কোনো ব্যবস্থা নেননি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারও হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের ফোনে দায়সারা জবাব দিয়েছেন। পুরো প্রশাসনকেই রাজনৈতিক করে ফেলেছেন? এত প্রশয় পান আপনারা? 

    অন্যদিকে, মালদহের ঘটনায় ১২টি এফআইআরের পাশাপাশি মূল দুই অভিযুক্ত সহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশ। সব মিলিয়ে সেদিনের ঘটনার জন্য ৪৩২ জনকে চিহ্নিতও করা হয়েছে। কিন্তু সবটাই করেছে রাজ্য পুলিশ। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত এনআইএ তদন্ত করে না। তবুও সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ আশ্রয় করে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্দেশ দিয়েছে, অবিলম্বে মালদহের ঘটনার তদন্ত শুরু করে দিক এনআইএ। রা‌জ্য পুলিশের থেকে যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে নিক। ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি বলেন, সেদিনের ঘটনা অত্যন্ত পরিকল্পনামাফিক। অত্যন্ত উস্কানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাই ওই ঘটনার বৃহত্তর দিকও তদন্ত করবে এনআইএ। যতদিন না পর্যন্ত এনআইএ সন্তুষ্ট হচ্ছে, ততদিন তদন্ত চলবে। তবে আগামী ১৩ এপ্রিল ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট দিতে হবে। এদিকে, কালিয়াচক কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত হিসাবে ধৃত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে কলকাতা বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)