নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অভিন্ন দেওয়ালি বিধি গোটা দেশেই চালু হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে সেই সম্ভাবনার স্পষ্ট বার্তা পাওয়া গেল। বিজেপির জন্মদিন উপলক্ষ্যে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মোদি ভাষণ দিয়েছেন সোমবার। সেখানে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের মতো বটবৃক্ষের নীচে যে দলের সূত্রপাত হয়েছিল, সেটি আজ এতই বড় হয়েছে যে, ভারতের প্রতিটি স্বপ্নই পূরণ করার মতো সাফল্য অর্জন করেছে। ৩৭০ অনুচ্ছেদের অবলুপ্তি থেকে রামমন্দির। মোদি বলেছেন, আমাদের মিশন এখনও সমাপ্ত হয়নি। এবার ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। এই দুই লক্ষ্য নিয়েই আলোচনা চলছে দেশজুড়ে। সেই আলোচনা ইতিবাচক দিকেই অগ্রসর হচ্ছে। এর আগে দেশজুড়ে তাঁর সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করতে চলেছে এটা মোদি কোনোদিন স্পষ্ট করে বলেননি। বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকার যখন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিজ রাজ্যে চালু করেছে, তখন তার পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। উত্তরাখণ্ড থেকে অসম, কিংবা উত্তরপ্রদেশ-গোয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। এমনকি অসমের বিধানসভা ভোটের প্রচারে গিয়েও মোদি একাকিবার বলেছেন যে, রাজ্যে চালু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। সোমবার আর রাজ্যের প্রসঙ্গ নয়। দেশেই যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হচ্ছে, তারই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০৩০ সালে হবে বিজেপির ৫০ বছর। ২০২৯ সালে পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন এবং বিজেপির পঞ্চাশতম বর্ষশুরু। সেই ৫০ বছর পূর্ণ করার আগেই সংঘ পরিবারের তাবৎ এজেন্ডা পূরণ করতে তৎপর মোদি। রামমন্দির, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, তিন তালাক, ৩৭০ অনুচ্ছেদ, ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন, একের পর এক এজেন্ডা পূর্ণ হয়েছে অথবা হতে চলেছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংঘ পরিবারের অন্যতম কোর এজেন্ডা। তাই আগে নিজেদের শাসিত রাজ্যগুলিতে এই ব্যবস্থা চালু করে দেশের জনমতের গতিপ্রকৃতির একটি আভাস পেতে চাইছিল বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। এবার সেই বিষয়ে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাস এসেছে গিয়েছে। মোদি নিজেই বলেছেন, বিজেপি এখন সাফল্য ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে। বিরোধীরা ছন্নছাড়া। তাই এটাই এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত গড়ে তোলার পক্ষে আদর্শ। দলের জন্মদিনেও মোদি পশ্চিমবঙ্গের ভোট ভুলতে পারছেন না। তাই এই ভাষণেও সমালোচনা করেছেন তৃণমূল সরকারকে।