• শেষ নিষ্পত্তি পর্যন্ত চলবে ট্রাইবুনাল: সুপ্রিম কোর্ট, ডিলিটেড ব্যক্তিদের ভোটদান অনিশ্চিত
    বর্তমান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: ‘বিচারাধীন’ তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ভোটারদের ভবিষ্যৎ কী? সোমবারও তা স্পষ্ট হল না সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, ১৯টি ট্রাইবুনাল শেষ আবেদনের নিষ্পত্তি পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবে। নাগরিকদের ‘ন্যাচারাল জাস্টিস’ দেওয়াটাই লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ। যদিও ট্রাইবুনাল কাউকে বৈধ ভোটার বলে রায় দিলেও তিনি এবার ভোট দিতে পারবেন কি? সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তবে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কার্যত খর্ব করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, বাতিল ভোটারদের যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখে নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ট্রাইবুনাল। সোমবারই ছিল পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার মনোনয়ন পর্বের শেষ তারিখ। নিয়ম অনুযায়ী, এদিন ঠিক রাত ১২টায় ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু বেশ কিছু ক্ষেত্রে ‘ই-সাইন’ এখনও বাকি। ফলে সুপ্রিম কোর্ট জানালেও এদিন রাতেই তালিকা প্রকাশ নিয়ে সংশয় দেখা গিয়েছে। কমিশন অবশ্য শীর্ষ আদালতে জানিয়েছে, ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন বিচারাধীনের নথির নিষ্পত্তি করে সোমবার রাতেই সা঩প্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হয়ে যাবে।

    এদিন সওয়াল পর্বে ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা বলেন, আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইবুনালে পাশ হওয়া ভোটারদের নাম পূর্ণাঙ্গ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। কিন্তু বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পর্যবেক্ষণে সাফ জানিয়ে দেন, ২৬ লক্ষ ভোটারের নাম আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমাধান করা অত্যন্ত কঠিন। প্রত্যেকেই চাইবে যে, তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হোক। কিন্তু এই অল্পদিনে তা করতে গেলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। সেই সুর ধরে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু শোনালেন, তাঁরা ভবিষ্যতের জন্য চেষ্টা করতে পারেন। বিচারকদের সন্তুষ্ট করতে না পারার কারণেই তো নাম বাদ যাচ্ছে। ঩কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতারও মন্তব্য, এভাবে কোনো একটি রাজ্যের জন্য কমিশনের বিধি বদলানো যায় না। এই দুই মন্তব্যে একটি বিষয় কার্যত নিশ্চিত, লক্ষ লক্ষ ‘ডিলিটেড’ ভোটার এবার আর ভোট দিতে পারবেন না।

    এরপরেই কমিশনকে কটাক্ষ করেন কল্যাণবাবু— ‘আপনারা তো গণতন্ত্রই শেষ করে দিচ্ছেন। ইসিআই তো এখন এক্সক্লুশন কমিশন অব ইন্ডিয়ায় পরিণত হয়েছে।’ তা শুনে পালটা তুষার মেহতাও বলেন, ‘এভাবে বলবেন না। তাহলে আমাদেরও কিছু বলতে হয়।’ উভয়পক্ষের বচসা বাড়ার আগেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, ‘আমরা তো আজই মামলা শেষ করছি না। আগে ট্রাইবুনাল কী করে দেখা যাক। আগামী ১৩ এপ্রিল বিকেল তিনটেয় ফের শুনানি হবে।’

    ‘ডিলিটেড’ ভোটাররা অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনে জেলাশাসক, এসডিএম, এসডিও’র কাছে আবেদন করছেন। তাঁদের রসিদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাইবুনালে কত দ্রুত কাজ শুরু করা যায়, তা দেখতে বলা হয়েছে কমিশনকে। আবেদন ও নিষ্পত্তির গোটা প্রক্রিয়ার গাইডলাইন তৈরির জন্য তিন অভিজ্ঞ বিচারপতিকে নিয়ে কমিটি গড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে।  সংবিধানের পাতায় পাতায় ছবি, নকশা আঁকা বিশিষ্ট চিত্রকর নন্দলাল বসুর নাতি এবং তাঁর পরিবারের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি ট্রাইবুনাল খতিয়ে দেখে দ্রুত নিষ্পত্তি করবে। এদিকে কমিশনের তরফে ট্রাইবুনালের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার জন্য নোডাল অফিসার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক বিভু গোয়েলকে।
  • Link to this news (বর্তমান)