• ধসে বিচ্ছিন্ন লাচেন, ফেরানো গেল না পর্যটকদের, গ্যাস সংকটে খাবারে টান
    বর্তমান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ধসে বিচ্ছিন্ন উত্তর সিকিমের লাচেন। সোমবার দিনভর চেষ্টার পরও ফেরানো গেল না আটকে পড়া পর্যটকদের। সিকিম প্রশাসন সূত্রে খবর, এক হাজারের বেশি পর্যটক আটকে রয়েছেন লাচেনে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই এ রাজ্যের। বিপর্যয়ের জেরে আটকে পড়া পর্যটকদের হোটেলে থাকা-খাওয়ার খরচ মকুব করে দেওয়া হয়েছে সিকিম প্রশাসনের তরফে। কিন্তু রান্নার গ্যাসের সংকট থাকায় টান পড়তে শুরু করেছে খাবারে। পর্যটকরা যাতে অভুক্ত না থাকেন, সেজন্য কোনো কোনো হোটেলে রান্নার জন্য জ্বালানো হচ্ছে কাঠের উনুন। কিন্তু টানা বৃষ্টি চলায় শুকনো কাঠও মিলছে না। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় ‘ড্রাই ফুড’ খেয়েই কাটাতে হচ্ছে পর্যটকদের। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সিকিম প্রশাসনের আধিকারিকরা। আপাতত পর্যটকদের হোটেল ছেড়ে কোথাও যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে তাঁদের কোনো উদ্বেগের কারণ নেই বলে এদিন আশ্বস্ত করা হয় সেনাবাহিনীর তরফে।

    মঙ্গন জেলা প্রশাসনের বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের আধিকারিক অর্পণ ছেত্রী বলেন, ১৭ হাজার ফুট উঁচুতে ডংকিয়া লা গিরিপথের রাস্তায় জমে থাকা বরফ সরানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ওই পথ ব্যবহার না হওয়ায় বরফের পুরু আস্তরণ রয়েছে রাস্তায়। ফলে বরফ সরাতে সময় লাগবে। তারাম চু নদীর কাছে বিশাল ধস নামায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নীচের রাস্তা। এরইমধ্যে নাগাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। তুষারপাত চলছে উঁচু এলাকায়। পর্যটকদের হোটেল ছেড়ে বেরতে নিষেধ করা হয়েছে। রেশন মজুত থাকলেও সংকট রয়েছে রান্নার গ্যাসের। রাস্তা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সিলিন্ডার আনা সম্ভব হবে না।

    রবিবার ধসের জেরে লাচেন যাওয়ার পথে পর্যটকদের প্রায় দু’শো গাড়ি এবং বহু বাইক আটকে পড়ে। রাস্তায় আটকে পড়া পর্যটকদের কোনোমতে স্থানীয় হোটেলে নিয়ে আসা হয়েছে। অনেকে এলাকার বাসিন্দাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তারাম চু নদীর উপর বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় যেভাবে বিশাল ধস নেমেছে, তাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লাগবে বলে মনে করছেন লাচেনের বাসিন্দারা। ডংকিয়া লা গিরিপথ হয়ে লাচুং দিয়ে আটকে পড়া পর্যটকদের যদি দু-একদিনের মধ্যে গ্যাংটকে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে এয়ার লিফ্ট করে তাঁদের ফেরানো হতে পারে বলে সিকিম প্রশাসন সূত্রে খবর। তবে সবটাই নির্ভর করছে আবহাওয়ার উপর। কারণ, উত্তর সিকিমে বৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।

    হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, লাচেন এই মুহূর্তে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। আটকে পড়া পর্যটকদের ডংকিয়া লা পাস হয়ে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে সিকিম প্রশাসন। সেনাবাহিনী, বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন, ইন্দো-টিবেটিয়ান পুলিশ, সিকিম পুলিশ সবাই মিলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা থেকে বরফ সরানোর চেষ্টা করছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে ওই কাজ। পর্যটকরা নিরাপদে আছেন। সিকিম প্রশাসন তাঁদের হোটেলে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)