সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: চা বলয়ের বিধানসভা কেন্দ্র মাদারিহাট। ফলে এই বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল নির্ধারণ হয় চা শ্রমিকদের ভোটেই। আর সেটা বুঝেই তৃণমূল, বিজেপি ও বাম তিন দলের প্রার্থীরা চা বাগানেই বেশি করে প্রচারে জোর দিয়েছেন। মাদারিহাট বিধানসভার অধীনে ১৯টি চা বাগানে ১০২টি বুথ। তবে মাদারিহাট বিধানসভার উপ নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। উপ নির্বাচনে বাগানের ১০২টি বুথের মধ্যে তৃণমূলের ৮২টি বুথে লিড ছিল। যদিও তৃণমূলের এই সুবিধাকে পাত্তা দিতে নারাজ তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল উপ নির্বাচনে পুলিশ প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে রিগিং, বুথ জ্যাম ও ছাপ্পা করে জিতেছিল। কিন্তু বিধানসভা ভোটে এটা হবে না।
চা শ্রমিকরা যেদিকে থাকবেন সেই দলই ২৩ এপ্রিল বাজিমাত করবে। আর সেটা মাথায় রেখেই তৃণমূল প্রার্থী জয়প্রকাশ টোপ্পো বিধানসভার ১৯টি বাগানেই প্রচারের কাজ শেষ করে ফেলেছেন। প্রতিটি বাগানে একাধিকবার প্রচার চালিয়েছেন। শুধু তাই নয়, রবিবার সন্ধ্যায় বীরপাড়ায় ওয়াররুমে ১৯টি চা বাগানের দলের চা শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের চা শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান নকুল সোনার ও সাধারণ সম্পাদক রবীন রাই। সংগঠনের মাদারিহাট ব্রাঞ্চ কমিটি এই বৈঠকের ডাক দিয়েছিল।
নকুল সোনার বলেন, ১৯৯৮ সালে চা বাগানে পঞ্চায়েতিরাজ ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। কিন্তু তখনও বাগান মালিকদের কাছ থেকে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানীয় জল, আলো ও রেশনিং সহ যাবতীয় নাগরিক পরিষেবা ঠিকমতো মিলত না। ২০১১ সালে রাজ্যে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর চা শ্রমিকদের এখন সরকারিভাবেই যাবতীয় নাগরিক পরিষেবা মিলছে। শ্রমিকরা এটা আজ বুঝতে পেরেছে। শ্রমিকরা বুঝতে পেরেছে তৃণমূল সরকারই তাঁদের পাশে আছে। ফলে আমাদের জয় নিশ্চিত।
এদিকে চা শ্রমিকরাই যে ভোটে ফ্যাক্টর, বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ লিম্বুও সেটা বুঝেছেন। তাই বিজেপি প্রার্থীও দিন রাত চা বাগানেই প্রচারে বেশি করে সময় দিচ্ছেন। সোমবার বীরপাড়া চা বাগানেও প্রচার চালিয়েছেন। বিজেপির চা শ্রমিক সংগঠন বিটিডব্লুইউয়ের ইউনিট কমিটিগুলিও বাগানের মাটি কামড়ে পড়ে আছে। চা বাগানের বুথে উপ নির্বাচনে এগিয়ে থাকার জন্য কি তৃণমূলের সুবিধা হবে? এই প্রশ্ন করা হলে স্থানীয় বাসিন্দা বিজেপি এমপি মনোজ টিগ্গা বলেন, তৃণমূল প্রশাসনের গোটা ফোর্সকে কাজে লাগিয়ে উপ নির্বাচনে জিতেছিল। বুথ জ্যাম, রিগিং ও ছাপ্পা করে তারা জিতেছিল। কিন্তু বিধানসভার ভোট আলাদা। বিধানসভার ভোট হবে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে। চা শ্রমিকরা এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে আমাদের জয় নিশ্চিত। এদিকে বাম প্রার্থী আরএসপি’র সুভাষ লোহারও প্রচারে চা বাগানের মাটি কামড়ে পড়ে আছেন।