গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: বালুরঘাটের পর এবার গঙ্গারামপুর। কোন্দল কাঁটায় বিদ্ধ পদ্মপার্টি। গঙ্গারামপুরে প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় শক্তি কেন্দ্রের প্রমুখ পদ ছেড়ে সোমবার নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা করলেন বিজেপির বিক্ষুব্ধ নেতা চিত্তরঞ্জন বর্মন। তাঁর দাবি, তিনি তপনের হজরতপুরের বিজেপির শক্তি কেন্দ্রের প্রমুখ ছিলেন।
গঙ্গারামপুরে ফের সত্যেন্দ্রনাথ রায়কে বিজেপি টিকিট দেওয়ায় ক্ষোভে দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
এদিন মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন চিত্তরঞ্জন। তাঁর কথায়, নীচুতলার কর্মীদের কথা দল শোনেনি। উচ্চ নেতৃত্ব কথা না শোনায় দলীয় পদ ছেড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করেছেন তিনি। এদিন বেশকিছু কর্মীকে নিয়ে বালুরঘাটে এসে মনোনয়ন জমা করেন চিত্তরঞ্জন। দলীয় কর্মীরা একে একে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করে নির্দল হয়ে মনোনয়ন জমা করায় অস্বস্তিতে পড়েছে পদ্মপার্টি।
এবিষয়ে গঙ্গারামপুরের বিজেপি প্রার্থী সত্যেন্দ্রনাথ বলেন, তাঁকে আমি চিনি না। ওই এলাকার নেতারাও তাঁকে চেনেন না। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নেই। সত্যেন্দ্রনাথের অভিযোগ, এসব ক্ষেত্রে তৃণমূলের উসকানি থাকে। যদিও এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন তৃণমূল জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল।
বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরীও বলেছেন, কে দাঁড়িয়েছে, আমাদের জানা নেই। তবে বিজেপির কেউ গঙ্গারামপুর বিধানসভা থেকে দাঁড়ায়নি। এটা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি। কেউ পদত্যাগও করেননি। নাম না করে বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে চিত্তরঞ্জন বলেন, আমি একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। সেখানে নীচুতলার কর্মীদের মনের কথা উচ্চ নেতৃত্বর কাছে পৌঁছানো যায় না। তাঁরা আমাদের কথা শুনতেও চান না। তাই আমি শক্তি কেন্দ্রের প্রমুখের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। এবং নির্দল হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলাম।
বালুরঘাটের বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা সুশীল মার্ডিও নির্দল হয়ে মনোনয়ন জমা করেছেন। এবার গঙ্গারামপুরেও নির্দল হয়ে মনোনয়ন জমা করলেন বিক্ষুব্ধ এই নেতা।
নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপির অন্দরে ব্যাপক গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। খোদ জেলা সভাপতিও পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি ফের দায়িত্ব নিলেও দিকে দিকে কোন্দল থামছে না।