• মমতার সভায় মতুয়াদের ভিড় বিজেপিকে জবাব দেওয়ার শপথ
    বর্তমান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
  • সুখেন্দু পাল, সমুদ্রগড়: ‘আমরা বিজেপিকেই ভোট দিতাম। কিন্তু এতদিন ওদের ভোট দিয়ে পেয়েছি শুধু অসম্মান, বঞ্চনা আর লাঞ্ছনা!’ ঠাসা ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে সরস্বতী দাস যখন এ কথা শোনাচ্ছিলেন, তখন মঞ্চে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন—‘বিজেপি আসলে হিন্দু ধর্ম বিক্রি করে খায়। ওরা হিন্দু ধর্ম মানে না। দাঙ্গা লাগিয়ে বিভাজনের চেষ্টা করে। মানুষ ওদেরকে ইভিএমে জবাব দেবে।’ 

    জবাব দিতে তৈরি সরস্বতীরাও। সোমবার পূর্বস্থলীর সমুদ্রগড়ে মমতার জনসভায় সেই শপথ নিতেই এসেছেন ওঁরা। বিজেপির আসল স্বরূপ আর চিনতে আর বাকি নেই মতুয়াদের! কখনও আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। কখনও আবার ‘বহিরাগত’ তকমা সেঁটে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আবার এখন মতুয়াদের একাংশকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এসবের নেপথ্য কারিগর যে বিজেপি, তা সরস্বতীদের এখন বুঝতে অসুবিধা হয় না। ওঁদের কথায়, ‘আমরা সব বুঝতে পারছি।’ ছাব্বিশের ভোট তাই ওঁদের কাছে মোক্ষম হাতিয়ার। শানিয়ে নিতে দলবেঁধে এসেছেন মমতার সভায়। 

    পূর্বস্থলীর উত্তর ও দক্ষিণ কেন্দ্রে ভোট-সমীকরণে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন বড় ফ্যাক্টর। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর  থেকে তাঁদের একের এক প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছে বঙ্গের নেতারা। তাতে ফলও মিলেছে হাতেনাতে। ভোট বেড়েছে দুই কেন্দ্রেই। মতুয়ারা যে তিমিরে ছিলেন, সেই তিমিরেই থেকে গিয়েছেন। উল্টে বিভিন্ন সময় হয়রানি পেতে হয়েছে। এদিন মমতার সভায় হাজির প্রতিশোধস্পৃহাকে জাগিয়ে তুললেন সরস্বতীরা। খর চৈত্রের প্রখর রোদ মাথায় নিয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনলেন অগ্নিকন্যার জ্বালাময়ী বক্তৃতা। 

    শোনার পর প্রতিক্রিয়? গোটা পরিবারকে নিয়ে এদিন মমতার সভায় এসেছিলেন শ্রাবণী সরকার। তিনি বলছিলেন, ‘বিজেপি আমাদের অপমান ছাড়া আর কিছুই করেনি। দিদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছেন। প্রতি মাসে টাকা ঢুকে যাচ্ছে। মেয়ে কন্যাশ্রী পাচ্ছে। তা হলে কেন বিজেপিকে সমর্থন করতে যাব?’ শ্রাবণীর কথায় থাবা বাসিয়ে সরস্বতীর ফের সংযোজন—‘ওদের ভোট বঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই পাইনি। দিদি বাড়ি দিয়েছেন। স্বাস্থ্যসাথীতে ফ্রি চিকিৎসা পাচ্ছি। তাই দিদির সভায় এসে  বিজেপিকে হারানোর শপথ নিলাম।’ 

    বিজেপিকে হারাতে সরস্বতীদের যদি ভোটের দিন কেন্দ্রীয় আটকানোর চেষ্টা করে, তা প্রতিরোধ করার ওষুধও বলে দিয়েছেন মমতা। সভায় উপস্থিত  মহিলা ব্রিগেডের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী আটকালে ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে দেবেন। আপনারা ঝাড়ু কিনে রাখুন।’ পাশাপাশি বিজেপি বিশ্বাস না করার ব্যাপারেও সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘বিজেপিকে আর বিশ্বাস করবেন না। সবকিছু চেক করে নেবেন। ওরা আমার ছবি দেখিয়েও যদি কিছু বলতে চায়, সেটাও বিশ্বাস করবেন না। অ্যাকাউন্ট খুলতে বললে খুলবেন না। সেই অ্যাকাউন্টে কালো টাকা পাঠিয়ে পরের দিন ইডি পাঠাবে।’

    আচমকা সভার শ্রোতাদের মধ্যে হাততালির ঝড়। তৃণমূল সুপ্রিমো তখন মাইকে বলছেন, ওরা এআই দিয়ে নাম কেটেছে। ওরা মানুষকে অসম্মান করেছে। এর বদলা কি হবে না? বিজেপিকে শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে।’ 

    সরস্বতীদের হাততালির ঝড় আর থামতেই চায় না! 
  • Link to this news (বর্তমান)