বিজেপির প্রার্থী তালিকায় বহু কোটিপতি, ‘গরিব’ প্রার্থী নানুরের খোকন দাস
বর্তমান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
পিনাকী ধোলে, সিউড়ি: জেলাজুড়ে তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীদের গলায় মাঝেমধ্যেই শোনা যায়- ‘জেলার উন্নয়ন না হলেও শাসকদলের নেতাদের পকেটের উন্নতি হয়েছে।’ কিন্তু, বীরভূমের ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি যাঁদের প্রার্থী করেছে, হলফনামা অনুযায়ী তাঁদের নিজেদের সম্পত্তির পরিমাণও নেহাত মন্দ নয়। সোমবার রাত পর্যন্ত বীরভূম জেলার ১০জন বিজেপি প্রার্থীর হলফনামা কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপিতেও রয়েছেন কোটিপতি অনেক প্রার্থী।
কমিশনের নথি অনুযায়ী, বীরভূমে বিজেপি প্রার্থীদের মধ্যে বিত্তের নিরিখে তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন নলহাটির অনিলকুমার সিং। অনিলবাবুর নিজের নামে প্রায় ৪১ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি থাকলেও, স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৫ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। এমনকি, তাঁর গৃহবধূ স্ত্রীর নামেও রয়েছে ৫৬ লক্ষ টাকার সম্পত্তি। পিছিয়ে নেই রামপুরহাটের বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহাও। জমি-জায়গা মিলিয়ে সস্ত্রীক তাঁর মোট স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ আড়াই কোটি টাকার বেশি।
সিউড়ির বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বার্ষিক আয় হলফনামা অনুযায়ী প্রায় ৭ লক্ষ টাকা। তাঁর মোট অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। সাঁইথিয়ার প্রার্থী কৃষ্ণকান্ত সাহাও কোটিপতির তালিকায় রয়েছেন। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তি এক কোটি ১৩ লক্ষ টাকার বেশি, যার মধ্যে প্রায় ২২ লক্ষ টাকার সোনা রয়েছে। তাঁর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২৯ লক্ষ টাকা। পেশায় ব্যবসায়ী কৃষ্ণকান্ত কয়েক বছর আগে পর্যন্ত গৃহশিক্ষক হিসাবে এলাকায় পরিচিতি ছিলেন।
বীরভূমের রাজনীতির পরিচিত মুখ তথা ময়ূরেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী দুধকুমার মণ্ডলও কোটিপতি হওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। পেশায় চাষি ও ধান বিক্রেতা দুধকুমারের সস্ত্রীক মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৯৪ লক্ষ টাকা।
তবে ৫ বছর বিধায়ক থেকেও অবশ্য কোটিপতি হতে পারেননি দুবরাজপুরের অনুপ সাহা। তাঁর কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই, অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২২ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা। বোলপুরের প্রার্থী দিলীপ কুমার ঘোষেরও কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই, তবে ৪৫ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি তাঁর রয়েছে। লাভপুরের প্রার্থী দেবাশিস ওঝার মোট সম্পত্তিও কোটির কাছাকাছি। বীরভূমের বিজেপি প্রার্থীদের মধ্যে সবথেকে ‘গরিব’ প্রার্থী হলেন নানুরের খোকন দাস। ব্যাংকে গচ্ছিত সামান্য টাকা ও এলআইসি পলিসি মিলিয়ে তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ মাত্র ২ লক্ষ ৫২ হাজার ২৫০ টাকা। তাঁর নামে কোনো সোনাদানা বা জমিও নেই। কমিশনের এই হলফনামা ঘিরে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, এতদিন তো বিজেপি প্রার্থীরা মুখে বড় বড় কথা বলতেন যে তৃণমূল শুধু নিজেদের উন্নতি করেছে। এখন আয়নায় নিজেদের মুখগুলো একবার দেখুক। গৃহ শিক্ষক থেকে কীভাবে কোটিপতি হয়েছেন, তা তদন্ত হওয়া দরকার। পাল্টা জেলা সহ-সভাপতি দীপক দাস বলেন, আমাদের প্রার্থীরা ব্যবসা বা চাষাবাদ করে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়েছেন, মানুষের টাকা লুটে নয়। মানুষের কষ্টের টাকা লুটে যারা কোটিপতি হয়েছে, তাদের মুখে আমাদের প্রার্থীদের সম্পত্তি নিয়ে কথা বলা মানায় না।