• ভোট বৈতরণি পার হতে কেউ গাঁথছেন ইট, কেউ কাটছেন খড়, প্রার্থীদের কাণ্ডে অবাক ঘাটালবাসী
    বর্তমান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ঘাটাল: ভোটের বাদ্যি বাজলেই নেতার সংজ্ঞা বদলে যায়। তখন আর এসি গাড়ি বা মঞ্চের ভাষণ নয়, আমজনতার দরবারে কার্যত ‘বহুরূপী’ সেজেই পৌঁছতে হয় প্রার্থীদের। কেউ খড় কাটেন, কেউ ইট গাঁথেন। ঘাটাল মহকুমার তিন বিধানসভা কেন্দ্র ঘাটাল, চন্দ্রকোণা এবং দাসপুরে এখন এমনই বিচিত্র সব জনসংযোগের ছবি ধরা পড়ছে। ভোটারদের মন পেতে প্রার্থীরা যে কোনো কিছু করতে রাজি। 

    সোমবার সকালে চন্দ্রকোণা বিধানসভার কৃষ্ণপুর এলাকায় প্রচারে বেরিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সূর্যকান্ত দলুই। কৃষ্ণপুর আদিবাসী পাড়ায় প্রচার চলাকালীন তিনি দেখেন, এক ব্যক্তি গোরুর খাবারের জন্য একা হাতে খড় কাটছেন। দেরি না করে শাসক দলের প্রার্থী খড় কাটার কাজে হাত লাগান। বেশ কিছুক্ষণ খড় কাটার পর সেই অবস্থাতেই ওই ব্যক্তির কাছে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। শুধু তাই নয়, আদিবাসী পাড়ার বয়স্কদের পা ছুঁয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদও নেন সূর্যকান্তবাবু। ‘ঘরের ছেলে’ ইমেজ তৈরিতে কোনো খামতি রাখছেন না প্রাথী।

    পিছিয়ে নেই বিজেপিও। রবিবার ঘাটাল বিধানসভার রাজনগর এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরছিলেন প্রার্থী শীতল কপাট। একটি বাড়িতে রাজমিস্ত্রিদের কাজ করতে দেখে সোজা চলে যান তাঁদের পাশে।   মিস্ত্রির হাত থেকে কর্নিক কেড়ে নিয়ে দক্ষ হাতে ইটের ওপর মশলা দিয়ে গাঁথনি শুরু করেন শীতলবাবু। মিস্ত্রি থেকে শুরু করে গৃহস্থ সকলেই প্রার্থীর এই কাণ্ড দেখে থ। রাজনীতির ময়দানে কাদা ছোড়াছুড়ি ছেড়ে প্রার্থীদের এমন আচরণ মহকুমায় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ঘাটাল বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী সর্দারকে নিয়ে আবার অন্য এক মজার কাণ্ড ঘটেছে। কয়েক দিন আগে ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে পদযাত্রার জন্য ঘাটাল শহরের দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন প্রার্থী। চাঁদিফাটা রোদে হাবিবুর রহমান তখন আয়েশ করে আইসক্যান্ডি চুষছিলেন। ভোট বড় বালাই, তাই নেতার প্রস্তাব ফেরাতে পারেননি প্রার্থী। নেতার হাত থেকে সেই আইসক্যান্ডি নিয়েই সবার সামনে কামড় দিতে দেখা গেল শ্যামলীদেবীকে। মেঠো রাজনীতিতে একেই বোধহয় বলে ‘মধুরেণ সমাপয়েৎ’।

    বামেরাও রয়েছে একই সারিতে। দাসপুর বিধানসভার সিপিএম প্রার্থী রণজিৎ পাল প্রচারে বেরিয়ে ঢুকে পড়ছেন আলুর জমিতে। কৃষকের হাত থেকে কোদাল নিয়ে অবলীলায় আলু তুলছেন তিনি। আবার কোথাও কোনো প্রার্থী ঢুকে যাচ্ছেন গৃহস্থের রান্নাঘরে। মাছভাজা উল্টে দিয়ে গৃহস্থের মন জয় করার চেষ্টায় খামতি নেই তাঁর। কেউ বা রাস্তার ধারে কান্নাকাটি করা শিশুকে কোলে নিয়ে ভোলানোর চেষ্টা করছেন, আবার কাউকে দেখা যাচ্ছে টোটোর স্টিয়ারিং ধরে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে। সব মিলিয়ে ভোট বৈতরণি পার হতে ঘাটাল মহকুমার প্রার্থীরা এখন যে কোনো ভূমিকায় অভিনয় করতে প্রস্তুত। শেষ পর্যন্ত এই ‘অভিনব’ প্রচার ইভিএমে কতটা প্রভাব ফেলে সেটাই দেখার।
  • Link to this news (বর্তমান)