নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রবিবাসরীয় প্রচারে আসানসোলের গোপালপুর এলাকা চষে বেড়ালেন অখিলেশ কুমার সিং। বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই প্রার্থী হিসেবে আসানসোল উত্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই পোড় খাওয়ার শ্রমিক নেতা। তিনি রাস্তায় হাঁটতেই ইসিএলের বহু অবসরপ্রাপ্ত কর্মী তাঁর সঙ্গে হাত মেলালেন। অনেকে শুভেচ্ছা বিনিময় করে পাশে থাকার আশ্বাসও দিলেন। এই আশ্বাসকে সঙ্গী করেই অখিলেশবাবু এগিয়ে চললেন।
কিছুটা এগতেই দেখা ইসিএলের আধিকারিক মনোজ কুমারের সঙ্গে।মনোজবাবু নিজেই পরিচয় দিলেন। আন্দোলন থেকেই তাঁদের মধ্যে পরিচয়। আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতা হিসেবে খনি অঞ্চলে পরিচিত অখিলেশ। এখন সাধারণ রাজনীতিতে নেমে মানুষের মন পেতে সচেষ্টতিনি।
শুধু অখিলেশবাবু নয়, শিল্পাঞ্চলে ন’টির মধ্যে ৬টি আসনেবামেদেরপ্রার্থীশ্রমিক নেতারা। বিগত পাঁচ বছরে একাধিক শ্রমিক আন্দোলন সফল হবে সংগঠিত করেছে বামেরা। সাফল্য এসেছে। সিএলডব্লু নির্বাচনে সিটু অনুমোদিত চিত্তরঞ্জন লেবার ইউনিয়ন সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংগঠনের বৃহত্তম মঞ্চ গড়ে ইসিএলে একাধিক ধর্মঘট সফলভাবে করেছে তারা।একইভাবে সেইলেরও একাধিক বঞ্চনা নিয়ে সিটুর আন্দোলন দেখা গিয়েছে। শ্রমিক সংগঠনের ধারাবাহিকের আন্দোলনকে পুঁজি করেই বিধানসভা ভোটে জিততে মরিয়া তারা। দুর্গাপুর পূর্ব আসনে সীমান্ত চট্টোপাধ্যায় এবং দুর্গাপুর পশ্চিম আসনেপ্রভাস সাঁই দুজনই শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। সীমান্তবাবু ডিএসপি শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তেমনি অঙ্গদপুর রাতুড়িয়া শিল্পতালুকে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রভাস সাঁই। রানিগঞ্জ সিপিএম প্রার্থী করেছে নারান বাউরিকে। তিনি আসানসোল পুরসভার কাউন্সিলারের পাশাপাশি শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। আসানসোল উত্তরের পাশাপাশি কুলটির প্রার্থী ভবানী আচার্যর দীর্ঘ শ্রমিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।
গোপালপুরে প্রার্থী অখিলেশকে নিয়ে ছড়াও বেঁধেছে বাম কর্মী সমর্থকরা। তাদের দাবি,’রাজ্যে শিল্পের নাইরেশ, তাই এবার অখিলেশ’।শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসকে সঙ্গী করে তারা কর্মসংস্থান ও নতুন শিল্প আনার স্বপ্ন ফেরি করছে শিল্পাঞ্চলে। বিশেষভাবে মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরছেন। সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলী সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের প্রার্থী তালিকা দেখলে আপনারা দেখতে পাবেন ছ'জন শ্রমিক নেতাকে আমরা প্রার্থী করেছি। এছাড়া একজন মহিলা নেত্রী আমাদের প্রার্থী তালিকায় রয়েছে। বাউরি সম্প্রদায়ের দুজনকে প্রার্থী করা হয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজনকে প্রার্থী করা হয়েছে। সব সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব রেখেছি প্রার্থী তালিকায়। মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ কর্মসংস্থানের অভাববোধ করছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারই যোগ্যদের কর্মসংস্থান দিতে ব্যর্থ। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, সিপিএমের কোনো অস্তিত্ব শিল্পাঞ্চলে নেই। তাদের মানুষ পছন্দ করে না।
বিজেপি জেলা সহ-সভাপতি প্রশান্ত চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূলকে সাহায্য করার জন্য বামেরা ময়দানে নেমেছে।