ক্ষিতিদার মেয়ে প্রার্থী, পূর্বস্থলী উত্তরে জয় নিয়ে আশাবাদী মমতা
বর্তমান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, সমুদ্রগড়: পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে এবার বিদায়ী বিধায়ককে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। বসুন্ধরা গোস্বামীকে প্রার্থী করে শাসক দল এই কেন্দ্রে বাজিমাত করতে চাইছে। সোমবার সমুদ্রগড়ের সভা করতে এসে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই কেন্দ্রে জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, মানুষের হয়ে বসুন্ধরা কাজ করেন, তাঁরই প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। কাজ না করে কেউ কেউ প্রার্থী হতে চায়। আর টিকিট না পেলে অন্য দলের হয়ে কাজ করে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নেত্রী বিক্ষুব্ধদের সতর্ক করতে চেয়েছেন। দলের সিদ্ধান্ত মেনে সকলকেই এক সঙ্গে কাজ করা উচিত বলে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন।
এই বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণার পর এক নেতা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তাঁকে প্রচারেও দেখা যাচ্ছে না। যদিও শাসক দলের দাবি, প্রতিটি কেন্দ্রেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ভোট হয়। তাই যে বা যারা দলের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তারা কালিদাস ছাড়া আর কিছু নন। এদিনের সভা থেকে পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী বসুন্ধরা গোস্বামী বলেন, মানুষের কাজ করার জন্য দিদি আমাকে এখানে এনেছেন। আপনারা সেই সুযোগ করে দেবেন।
তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, বসুন্ধরা ক্ষিতিদার(ক্ষিতি গোস্বামীর) মেয়ে। তাঁরা অনেক দিন ধরেই আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। বসুন্ধরা খুব ভাল প্রচার করছেন। স্কুটি চালিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন। ওঁ মানুষের জন্য কাজ করতে চান।
পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভাকেন্দ্র জয় নিয়ে স্থানীয় নেতারাও আশাবাদী। এই বিধানসভা কেন্দ্রে তিনটি পঞ্চায়েত মন্তেশ্বর ব্লকের মধ্যে রয়েছে। ওই তিনটি পঞ্চায়েত থেকেও দল ব্যাপক লিড পাবে বলে স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন। সাংসদ শর্মিলা সরকার বলেন, মানুষ কাজ দেখে ভোট দেয়। দিদি জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নানা ধরনের প্রকল্প চালু করেছে। মেয়েরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছে। ছাত্রীরা কন্যাশ্রী পাচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের যাতে হেঁটে স্কুলে যেতে না হয়, তারজন্য সাইকেল দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রয়েছে।
এদিন তৃণমূল নেত্রী পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে জনসভা করেন। এই কেন্দ্র তৃণমূলের দুর্জয় ঘাঁটি বলে তৃণমূল দাবি করেছে। এই কেন্দ্রের প্রার্থী স্বপন দেবনাথ। স্থানীয়রা বলেন, তাঁর হার ধরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এদিন মূলত এই বিধানসভা কেন্দ্রের কর্মী এবং সমর্থকরা সভায় এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে মহিলাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তা দেখেই শাসক শিবিরের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গিয়েছে। তৃণমূল নেত্রী বলেন, বিজেপিকে ইভিএমে জবাব দিতে হবে। বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে জব্দ করতে হবে। ওরা মানুষের জন্য কাজ করে না। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকে কাজ করার পরও টাকা পাচ্ছে না।