বিজেপির সিআরপিএফ থাকুক, আমার সঙ্গে মানুষ আছে: মমতা
বর্তমান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
সুখেন্দু পাল, অগ্নিভ ভৌমিক, সমুদ্রগড় ও শান্তিপুর: ভোটের ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিটি কর্মসূচিতে আম জনতা বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছে। আর ঠিক এই কারণেই এসআইআরের হয়রানি, লক্ষ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া, পুলিশ-প্রশাসনে ঢালাও বদলি—তারপরও আত্মবিশ্বাস হারাননি বাংলার অগ্নিকন্যা। তাই বর্ধমানের সমুদ্রগড় হোক, নদীয়ার শান্তিপুর বা নাকাশিপাড়া, সোমবার শোনা গিয়েছে তাঁর প্রত্যয়ী হুংকার, ‘আবার জিতব আমরা। আরও বেশি আসনে।’ প্রতিবার তাঁর গর্জনের সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে সাধারণ মানুষের সমর্থন। তাই বাংলার উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘ওদের সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মানুষ আমার সঙ্গে আছে। মানুষের চোখমুখ যদি বুঝে থাকি, বলতে পারি এবার বেশি আসন নিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় আসছে। ভয় নেই।’ তিনি বলেছেন, সোল্লাসে সায় দিয়েছে জনতা। বিশেষভাবে মহিলারা। প্রত্যেকটি সভায় তাঁদেরই ভিড় যে ছিল চোখে পড়ার মতো। তা প্রতি মুহূর্তে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করেছে নেত্রীকে।
তৃণমূল নেত্রী এদিন বলেন, ‘এবারের নির্বাচনটা আলাদা। অন্যবারও বিজেপি বদমায়েশি করে। কিন্তু ওরা এবার যে অত্যাচার করছে, তা আগে দেখিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত এজেন্সিকে দিয়ে ভোট লুটের চেষ্টা করছে। দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করেছে।’ বিজেপি বাইরে থেকে লোক ঢোকানোর চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এআই ব্যবহার করে বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। তারপরও বিজেপি সাফল্য পাবে না।’ বিজেপির উদ্দেশে তাঁর তোপ, ‘ওদের এক একজন নেতা ৫০ জন ফোর্স, ৫০টি গাড়ি নিয়ে ঘুরছে। এত টাকা আসছে কোথা থেকে? বিজেপি দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে লোক আনছে। কেন্দ্রীয় সরকারের লোকজন ওদের সঙ্গে করে নিয়ে আসছে। ওরা বাংলাকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছে। বাংলার মানুষ বিজেপির বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেবে। রাজনৈতিকভাবে জব্দ করে ওদের ফেরত পাঠিয়ে দিতে হবে। শূন্য করে দিতে হবে।’
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ায় রাজ্যজুড়েই মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আগামী দিন কী হবে, সেই উদ্বেগ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। তৃণমূল নেত্রী সমুদ্রগড়ের সভা থেকে বলেন, ‘ডিটেনশন ক্যাম্প আটকাতে তৃণমূল ছাড়া কাউকে ভোট দেবেন না। তোতাপাখি কমিশন বলছে, এজেন্টরা বুথের বাইরে থাকবে আর সেন্ট্রাল ফোর্স ভিতরে। নন্দীগ্রামে কমিশনার গিয়েছিলেন। সঙ্গে বিজেপির লোকজন ছিল। এখানেই বিজেপির সঙ্গে কমিশনের যোগ প্রমাণ হয়ে গেল। ওরা প্ল্যান করেছে কাউন্টিংয়ের দিন সকালে রটিয়ে দেবে, বিজেপি জিতছে। মানে ওদের জায়গাগুলি আগে গোনা হবে। ভয় পাবেন না। তৃণমূল আরও বেশি আসন নিয়ে জিতবে। বিজেপির স্বৈরতন্ত্রের প্রাচীর ভেঙে দিতে হবে। ভোটবক্সে বদলা নিতে হবে। একটা ভোটও বিজেপিকে দেবেন না। ওরা সর্বনাশী দল। সেন্ট্রাল ফোর্স যদি গ্রাম আটকায়, মেয়েরা ঝাড়ু নিয়ে তৈরি থাকবেন। রুখে দেবেন। সিআরপিএফকে বুথে ভোট দিতে দেবেন না। বিহারে ছাপ্পা মেরেছে। এখানে তা হবে না।’ তৃণমূল নেত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহকে আক্রমণ করে বলেন, ‘বাংলার কথা বললেই ঘুসপেটিয়া আর রোহিঙ্গা। আপনারা তো এদের ভোট পেয়েছেন। তাহলে পদত্যাগ করুন! অযোধ্যা ঘুরিয়ে সিআরপিএফ নিয়ে আসছে বিজেপি। কিন্তু, এটা ২৫ দিনের খেলা। এরপরই ওরা বুঝবে ঠেলার নাম বাবাজি। বিএসএফের ডিজি বলেছেন, মেয়েদেরও শরীর চেক হবে। এত সস্তা?’ বাইরের রাজ্য থেকে টাকা ঢোকানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সতর্ক থাকতে বলেন কর্মীদের। সাধারণ মানুষকে। কারণ, তাহলেই বাংলা বাঁচবে। বাংলার অধিকারও।