• কমিশন কালনা থানার ওসি করল আয়বহির্ভূত সম্পত্তি মামলায় অভিযুক্ত এক ইনস্পেক্টরকে
    বর্তমান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
  • শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: আজব কাণ্ড নির্বাচন কমিশনের। আয়বহির্ভূত সম্পত্তি মামলায় অভিযুক্ত এক ইনস্পেক্টরই কালনা থানার দায়িত্ব পেয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সৌজন্যে। তাঁর বাড়ি থেকে নগদ ৩১ লক্ষাধিক টাকা এবং বিপুল গয়না বাজেয়াপ্ত করেছিল রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা। তাঁর বিরুদ্ধে এখনো তদন্ত চলছে। মামলা ঝুলে থাকা একজন অফিসারকে কীভাবে থানার দায়িত্ব দিল কমিশন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করছে। বিজেপিকে খুশি করতে, তাদের পছন্দের অফিসারদের আইসি বা ওসি পদে বসাতে গিয়েই কমিশনের এই দুর্দশা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    দায়িত্ব নিয়েই নির্বাচন কমিশন রাজ্য পুলিশের একাধিক ওসি বা আইসিকে সরিয়ে দেয়। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করে কমিশন। এই ওসি বা আইসিদের সঙ্গে রাজ্যের শাসক দলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে প্রচার শুরু করে বিরোধী দল। ২৯ মার্চ নির্বাচন কমিশন ১৪২ জন ইনস্পেক্টর এবং ওসির বদলির অর্ডার বের করে। সেই তালিকায় ১৪২ নম্বরে নাম রয়েছে ইনস্পেক্টর দুর্গাপ্রসাদ মজুমদারের! আইবিতে থাকা এই অফিসারকে কালনা থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে, এই ইনস্পেক্টর চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন।

    রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, নবান্নের অনুমতি নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ দুর্নীতিদমন আইনে আয়বহির্ভূত সম্পত্তির কেস রুজু হয়।  দুর্গাপ্রসাদবাবুর মধ্যমগ্রামের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ৩১ লক্ষ ১০ হাজার ৬০০ টাকা এবং ৫৮০ গ্রাম সোনার অলংকার উদ্ধার করেন দুর্নীতি দমন শাখার অফিসাররা। এফআইআরে তাঁর নাম ছিল। এই বিপুল পরিমাণ টাকা তিনি কোথা থেকে পেলেন, তা জানতে একাধিকবার ডেকে পাঠিয়ে দুর্গাপ্রসাদবাবুকে জেরাও করা হয়। তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। জমা পড়েনি চার্জশিট। এর মাঝে তাঁকে সিআই রেজিনগর থেকে সরিয়ে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে বদলি করে নবান্ন। 

    এহেন একজনকেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন কালনা থানার দায়িত্ব দিয়েছে! কমিশনের নিয়ম রয়েছে, ক্রিমিনাল কেস থাকা কোনো অফিসারকে থানায় রাখা যাবে না। অথচ কমিশন নিজেরই তৈরি করা নিয়ম এক্ষেত্রে ভেঙেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে কেস রয়েছে, এই বিষয়টি কমিশন কেন খোঁজ নিল না, সেটা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। 

    রাজ্যের শাসক দলের বক্তব্য, আসলে বিজেপির পছন্দের তালিকা ধরেই ওসি বা আইসিদের বদলির অর্ডার বের করছে তাদের নির্দেশে চলা কমিশন। ওই ইনস্পেক্টর যে ক্রিমিনাল কেসে অভিযুক্ত, সেটা জানার প্রয়োজন বোধ করেনি তারা। এমনকি, রাজ্য পুলিশের কাছে জানতে চায়নি কোনো ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে কোথাও কেস ঝুলে রয়েছে কি না। কমিশনের এই তুঘলকি কাজকর্মে কমিশনের বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
  • Link to this news (বর্তমান)