• মাদার-যুব একত্রিত হয়ে লড়াই তৃণমূলের, ভোট কাটাকুটির অঙ্ক কষছে বিরোধী শিবির
    বর্তমান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
  • সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: একটা সময় ছিল, যখন ক্যানিংয়ের বুকে তৃণমূলের যুব ও মাদার গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব লেগে থাকত প্রতিদিন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় তা আরও বেআব্রু হয়ে পড়ে। সেসব এখন অতীত! ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলে কোনো গোষ্ঠী বলে কিছু নেই বলে দাবি নেতৃত্বের। যুব ও মাদার একজোট হয়ে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে নেমে পড়েছে। এবারের ভোটযেুদ্ধে এটাই তাদের সাফল্যের অন্যতম কারণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছে তৃণমূল। উলটো দিকে, তৃণমূলের ভোটব্যাংকে ভাগ বসাতে কাটাকুটির অঙ্ক কষছে সব বিরোধী দল। আইএসএফ, কংগ্রেস এবং বিজেপি প্রার্থী দিয়েছে এই কেন্দ্রে। কার ভোট কাটলে কে সুবিধা পাবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা হিসাব।

    ২০১১ সালের আগে এই বিধানসভায় কখনো বামেরা, কখনো কংগ্রেস জয়ী হয়েছে। তৃণমূলও একবার জয় লাভ করেছিল। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর একাধিপত্য বজায় রেখেছে ঘাসফুল শিবির। এই আসন থেকে দু’বার জয়ী হয়েছেন শ্যামল মণ্ডল। গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার এখান থেকে বিধায়ক হয়েছেন পরেশরাম দাস। এবারও তিনিই তৃণমূলের প্রার্থী। সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসাবে পরিচিত ক্যানিং। ১৫ বছর পর সেখানে দাঁত ফোটাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিরোধী দলগুলি। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা এক ‘দলবদলু’কে প্রার্থী করেছিল পদ্মপার্টি। তারপর থেকে তৃণমূলের অন্দরেই মাদার ও যুব গোষ্ঠীর মধ্যে শুরু হয়ে যায় চাপানউতোর। তারপরও অবশ্য কেন্দ্রে বিরোধী পক্ষ তেমন কোনো সুবিধা করতে পারেনি। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভেদকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা তুলতে ব্যর্থ হয়েছে বাম, বিজেপি। তৃণমূল প্রার্থী বলেন, ‘এখন দলে কোনো ভেদাভেদ নেই। আমরা সবাই এক হয়ে লড়াই করছি। বিজেপি, সিপিএম হোক বা আইএসএফ, কেউ ফ্যাক্টর নয়। চারবার দলবদল করা একজনকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। মানুষ এঁদের মেনে নেবে না।’

    সূত্রের খবর, এসআইআরে এই বিধানসভায় ২৭ হাজারের বেশি নাম আগেই বাদ গিয়েছে। ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের মধ্যেও বহু নাম বাদ যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি শাসক দলকে চাপে রাখবে বলে মনে করছে বিরোধীরা। যদিও পরেশবাবুর বক্তব্য, ‘যতই নাম বাদ যাক, এই আসন ভালো মার্জিনে তৃণমূল জিতবে।’ বিজেপির দাবি, তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে আইএসএফ ভাগ বসিয়ে দিলেই কেল্লা ফতে। সেই মতো হিন্দু ভোট এক জায়গায় করতে এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে গেরুয়া শিবির। তবে বিজেপির অন্দরে প্রার্থী নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে। প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় দলের একটি অংশ এখনো সক্রিয় হয়নি বলে খবর। বিধানসভার দায়িত্বে থাকা এক বিজেপি নেতার কথায়, ‘দলের সবাই প্রচারে নেমে পড়েছে। যে কয়েকজন এখনো বসে আছেন, তাঁরাও নেমে পড়বেন শীঘ্রই।’ 

    এই বিধানসভার একাধিক ইস্যুতে শাসক-বিরোধী সব পক্ষই একমত। সেই মতো ঢালাও প্রতিশ্রুতি বিলোচ্ছেন তাঁরা। জিতে এলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি থেকে ক্যানিং শহরকে যানজট মুক্ত করার কথা বলছেন তাঁরা। বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত বায়েন বলেন, ‘জিতে এলে ক্যানিংয়ে নিকাশি ব্যবস্থা থেকে শুরু করে হাসপাতালের উন্নয়নে জোর দেব।’
  • Link to this news (বর্তমান)