পানিহাটিতে বিজেপির পতাকা গোছাতে ব্যস্ত সেক্টর অফিসার সাসপেন্ড
বর্তমান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বিজেপির পতাকা সহ অন্যান্য প্রচার সামগ্রী গোছাতে ব্যস্ত পানিহাটির এক সেক্টর অফিসার! সেই ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে শুরু হয়েছিল তীব্র বিতর্ক। গত শুক্রবার রাতে ওই ভিডিয়ো পোস্ট করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষ। পরে তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এনিয়ে কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন। অবশেষে ওই সেক্টর অফিসারকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। যদিও বিষয়টি নিয়ে ওই সেক্টর অফিসার এদিন কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য কমিশনের সঙ্গে বিজেপির যোগ নিয়ে সরব। বিজেপির পালটা দাবি, তৃণমূলের বহু কর্মী নির্বাচন কমিশনের কর্মী হয়ে বসে আছেন। তাঁদেরও এবার প্রকাশ্যে আনা হবে।
ওই ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছিল, একটি ঘরে বসে কয়েকজন বিজেপির প্রচার সামগ্রী গোছাচ্ছেন। মেঝেতে বসে বিজেপির পতাকা বাঁধার কাজ করছেন তিন জন। নির্বাচনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত কথাবার্তাও বলছেন তাঁরা। শুক্রবার রাতে ভিডিয়োটি পোস্ট করে একজনকে চিহ্নিত করে কুণাল প্রশ্ন তোলেন, এই ব্যক্তি কি নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত পানিহাটির সেক্টর অফিসার? বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি তোলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তির পরিচয় সামনে আসে। জানা যায়, ভিডিয়োতে কালো গেঞ্জি পরা ব্যক্তি অতনু চক্রবর্তী। তিনি পানিহাটির সেক্টর অফিসার হিসাবে নিযুক্ত। তাঁর বাড়ি আগরপাড়া নর্থ স্টেশন রোড এলাকায়। তিনি বারাসত চৌধুরীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকা কোনো আধিকারিক কীভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রচারে যুক্ত থাকতে পারেন, সেই প্রশ্ন ওঠে। তদন্ত শুরু করেন কমিশনের জেলা আধিকারিকরা। এরপর অতনু চক্রবর্তীকে প্রথমে শো-কজ ও পরে সাসপেন্ড করা হয়। অতনুবাবু বলেন, ‘আমি চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শো-কজের জবাব দিয়েছি। এনিয়ে প্রকাশ্যে আর কিছু বলব না।’ পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘দেশের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে বিজেপি ধ্বংস করেছে। মানুষের রায়ে বাংলা দখল সম্ভব নয় বুঝে কমিশনকে সামনে রেখে মানুষের অধিকার কাড়তে চাইছে।’ পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী কৌশিক চট্টোপাধ্যায় ওরফে ভোলা বলেন, ‘ওই ভিডিয়ো অনেক পুরানো। তাছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের রাজনীতি করতে তো কোথাও বাধা নেই। আমাদের কাছে পানিহাটির একাধিক ইলেকশন আধিকারিকের ভিডিয়ো এবং ছবি আছে, যাঁরা তৃণমূলের মিছিলে হাঁটছেন, তৃণমূল প্রার্থীর সভার লাইভ ভিডিয়ো করছেন। এসব নিয়ে আমরা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করার পাশাপাশি কমিশনেও অভিযোগ জানাব।’