নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বাক্যবন্ধটা বেশ চলছে বাম মহলে। হেঁটে আছি, নেটেও আছি। অর্থাৎ পথের লড়াইয়ে যেমন আছি, তেমনই ইন্টারনেট বা সমাজমাধ্যমেও আছি। ডিজিটাল জমানার আধুনিক প্রচারে মেতেছে সিপিএম। হুগলিতে বামপন্থার নয়া গানে সাজছে লালঝান্ডার প্রচার। সুর-তাল-তানের সেই জগতে হিন্দি-বাংলা গান বাজছে। সুরের ছায়ায় ভোট বৈতরণী পার হওয়ার কাজে নেমেছে নবপ্রজন্মের বাম সংগঠন, স্যোশাল মিডিয়া টিম। তবে ময়দানে একা নেই বামেরা। ইতিমধ্যেই থিম গান নিয়ে সেখানে ঢুকে পড়েছে তৃণমূল। সংগঠিতভাবে না হলেও একক উদ্যোগে পাণ্ডুয়ার তৃণমূল প্রার্থী সমীর চক্রবর্তীকে নিয়ে গান বাঁধা হয়েছে। বাংলা ও বাঙালির স্বাভিমানের লড়াই। তাই সমীরবাবুর থিম গান আদ্যন্ত বাংলায়। আধুনিক বাংলা গানের আদলে সেই থিমগান ইতিমধ্যেই সুরেলা মৌতাত এনেছে পাণ্ডুয়ার মেঠো জনপদে, আলপথে।
হুগলির সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ছড়িয়েছে সিপিএমের সুরেলা প্রচার। ‘হম ইনকিলাব হ্যায়’-এর সুর-তানে বাঁধা সমস্ত প্রার্থীর ভিডিয়োতে দর্শকও জুটেছে অনেক। ২০২০ সালে নারীমুক্তি আন্দোলনকে সামনে রেখে পাকিস্তানের নারীবাদী নেত্রী ইসমত শাহজাহান ‘ইনকিলাব’ নিয়ে গান বেঁধেছিলেন। বামপন্থীরা ইতিমধ্যেই তাকে বিশ্বজুড়ে মুক্তি আন্দোলনের গণসংগীত হিসেবে গ্রহণ করেছে। হুগলি সিপিএমের ডিজিটাল টিমও সেই গানকেই আশ্রয় করেছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেই গান ও ভিডিয়োর সঙ্গে বামকর্মীরা জুড়েছেন আরও এক অধ্যায়কে। প্রয়াত নেতা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের গুটিকয় কথা। রাশভারী কণ্ঠে বুদ্ধবাবু বলছেন, ‘এ লড়াই লড়তে হবে, জিততে হবে’। লালের হাল ফেরানোর লড়াইয়ে প্রয়াত নেতার ডাক বাড়তি মাত্রা জুড়েছে। এমনিতে ‘হম ইনকিলাব হ্যায়’ এর সুর ও কথায় একটা যুদ্ধ যুদ্ধ আবহ আছে। ভোটযুদ্ধের শঙ্খনাদের সঙ্গে তাই মিশে গিয়েছে ভালো। হুগলিতে পার্টির সোশ্যাল মিডিয়ার ইনচার্জ সর্বক্ষণের কর্মী বাবাই সাহা বলেন, সময়ের সঙ্গে প্রচারের পদ্ধতি বদলেছে। মানুষ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়তি সক্রিয়। সেই মাধ্যমেই আমরা মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই। ‘হম ইনকিলাব হ্যায়’— মুক্তির কথা বলে। সেই কারণেই ওই গানটি বেছে নেওয়া হয়েছে। আমরা বাংলাতেও গান বেঁধেছি। সুর করে ভিডিয়ো করা হয়েছে। সেসবও প্রচারে থাকছে।
হুগলির তৃণমূল শিবিরে ভোটপ্রচারে প্রথম একক থিম গান এনেছেন পাণ্ডুয়ার প্রার্থী সমীর চক্রবর্তী। পাণ্ডুয়ায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, ‘বাংলার ছেলে এসেছে লড়তে এবার ময়দানেতে’। সেই গান বিরোধীদেরও বার্তা দিচ্ছে, ‘এ ছেলে আগুনপাখি-বিরোধীরা সব সামলে’। সমীর বলছেন, নতুন সময়ের জন্য নতুন ভাবনা। আসল কথা মানুষের কাছে পৌঁছানো। আমি বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি, আবার থিম গানও বাজছে। সরাসরি না হলেও রিলস করে কংগ্রেস প্রার্থী প্রীতম ঘোষের জন্য গানে গানে প্রচার করছেন কংগ্রেস কর্মীরা। এই গানময় প্রচারের ময়দানে মুচকি হাসছেন হুগলির একজন। তিনি চুঁচুড়ার তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য। তৃণমূলের ‘ইন্টারন্যাশনাল’— খেলা হবে, তাঁরই সৃষ্টি। বলছেন, বাংলা পথ দেখায়, পথ দেখায় তৃণমূল।