নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: মহাযুদ্ধের ভোটে মাহেন্দ্রক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ! ভোট যুদ্ধে কোমর কষে মাঠে নামতে কসুর করছে না কোনো পক্ষই। দ্বিতীয় দফার মনোনয়ন জমা দেওয়ার কাজ চলছে ঢাক ঢোল বাজিয়ে। পঞ্জিকা মিলিয়ে মাহেন্দ্রক্ষণ নির্ণয় করে সোমবার নমিনেশন জমা দিলেন তৃণমূল প্রার্থীরা। বাম-বিজেপি প্রার্থীরাও এদিন নমিনেশন জমা দিয়েছেন।
দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকে ১২টা ৫৩ মিনিট ছিল মহেন্দ্রক্ষণ। পুণ্যক্ষণে নমিনেশন জমা দিলেন বারাসত সাংগঠনিক জেলার হাবড়া, অশোকনগর, মধ্যমগ্রাম, বারাসত ও দেগঙ্গা কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থীরা। উপোস করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষ। তিনি মনোনয়ন জমা দেন। নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগে অফিসে পৌঁছন হাবড়ার তৃণমূলের প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। অশোকনগরের তৃণমূল প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামীর লাকি ফুল রজনীগন্ধা। তিনি রজনীগন্ধার মালা পরে এসেছিলেন। পুজো দিয়ে মনোনয়ন জমা দেন বারাসতের তৃণমূল প্রার্থী সব্যসাচী দত্ত। দেগঙ্গার তৃণমূল প্রার্থী আনিসুর রহমানও মনোনয়ন জমা দেন। বারাসত কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী তারক মুখোপাধ্যায়, আমডাঙার বিজেপি প্রার্থী অরিন্দম দে নমিনেশন জমা দিয়েছেন। বসিরহাট মহকুমা শাসকের দপ্তরে সন্ন্যাসীর বেশে মনোনয়ন পেশ করলেন বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র (বাদল)।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির উপস্থিতিতে সোমবার মনোনয়ন জমা দিলেন বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, বাগদা ও গাইঘাটা কেন্দ্রের চার বিজেপি প্রার্থী। ওই সব কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হলেন অশোক কীর্তনিয়া, স্বপন মজুমদার, সোমা ঠাকুর ও সুব্রত ঠাকুর। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার আসছে।
কল্যাণী মহকুমা দপ্তরে সোমবার মনোনয়ন জমা দিলেন তৃণমূলের তিন প্রার্থী। চাকদহ কেন্দ্রে শুভঙ্কর সিংহ, কল্যাণী কেন্দ্রে চিকিৎসক অতীন্দ্রনাথ মণ্ডল এবং হরিণঘাটা কেন্দ্রে চিকিৎসক রাজীব বিশ্বাস এদিন মনোনয়ন জমা করেন। সল্টলেকে বিধাননগর মহকুমা শাসকের দপ্তরে মনোনয়নপত্র পেশ করেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তেওয়ারি।
পাঁজিতে শুভ দিন দেখে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন উদয়নারায়ণপুরের তৃণমূল প্রার্থী সমীর পাঁজা। সঙ্গে ছিলেন সাংসদ সাজদা আহমেদ। উলুবেড়িয়া পূর্ব, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ ও শ্যামপুর কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। উলুবেড়িয়া পূর্বের কংগ্রেস প্রার্থী আলম দেইয়ান। উলুবেড়িয়া দক্ষিণ কেন্দ্রের ইন্তাজ আলি শাহ এবং শ্যামপুরের প্রার্থী মনজুর আলম মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কাকদ্বীপ শহর সরগরম ছিল। কাকদ্বীপ মহকুমার দু’জন তৃণমূল প্রার্থী ও তিনজন বিজেপি প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। সাগর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। এরপর পাথরপ্রতিমা বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী অসিত হালদার, কাকদ্বীপ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী দীপঙ্কর জানা ও সাগর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সুমন্ত মণ্ডল মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে কাকদ্বীপের তৃণমূল প্রার্থী মন্টুরাম পাখিরা মনোনয়নপত্র জমা করেছেন।
সব মিলে ৪৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। বারুইপুর পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন পাঞ্জাবি পরে মন্দিরে পুজো দিয়ে টোটোয় চেপে মনোনয়ন দিতে আসেন বারুইপুর মহকুমা শাসকের অফিসে। মনোনয়ন জমা দেন জয়নগরের তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বনাথ দাস, সোনারপুর উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম। ক্যানিং মহকুমায় চার বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়নে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
হুগলির চন্দননগরে বিধায়ক দম্পতি বেচারাম মান্না ও করবী মান্না মনোনয়ন দিয়েছেন। শ্রীরামপুর মহকুমার সমস্ত প্রার্থী এদিন মনোনয়ন দিয়েছেন। প্রথমবারের প্রার্থী তন্ময় ঘোষ, শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মনোনয়ন জমা করেছেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী, স্বাতী খন্দকার। পাশাপাশি, ধনেখালি, চুঁচুড়া, সপ্তগ্রাম, পাণ্ডুয়া ও বলাগড়ের বিজেপি প্রার্থীরাও এদিন চুঁচুড়ায় মনোনয়ন পেশ করেন। প্রত্যয়ী সকলেই, জয় সময়ের অপেক্ষা।