বুথভিত্তিক কর্মী বৈঠক তৃণমূল প্রার্থী লিটনের বাদুড়িয়া কেন্দ্রে অতিরিক্ত গুরুত্ব মহিলা ভোটে
বর্তমান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাদুড়িয়া বিধানসভায় ভোট দ্বিতীয় পর্যায়ে, ২৯ এপ্রিল। ফলে দলগুলির হাতে এখনও বেশ কিছুটা সময় রয়েছে। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে বুথভিত্তিক সংগঠন চাঙা করতে এবং বিশেষ করে মহিলা ভোট একজোট করতে তৎপর হয়েছে তৃণমূল। লক্ষ্য স্পষ্ট—জয়ের ব্যবধান বাড়ানো। তবে বিরোধীদের দাবি, মানুষ এবার পরিবর্তন চাইছে।
বাদুড়িয়া বিধানসভায় মোট ২৭৩টি বুথ। সর্বত্র শুরু হয়েছে ধারাবাহিক বৈঠক। লক্ষ্য শুধুই সংগঠন মজবুত করা নয়, বরং মহিলা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন। প্রতিটি বুথে মহিলা কর্মীদের আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোথাও বাড়ি বাড়ি পৌঁছে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলা, কোথাও আবার ছোটো ছোটো বৈঠকের মাধ্যমে মহিলাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। দলীয় সূত্রে খবর, এই বুথভিত্তিক মাইক্রো ম্যানেজমেন্টই এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের প্রধান ভরসা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাদুড়িয়ার ভোট-সমীকরণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মোট ভোটার ২ লক্ষ ২৫ হাজার ৫১৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৪৪২ এবং মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৯ হাজার ৭২। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চার জন। গতবার এই বিধানসভায় ৫৬ হাজার ৪৪৪ ভোটে জেতেন তৃণমূল প্রার্থী আব্দুল রহিম কাজি ওরফে দিলু। এই অবস্থায় বিপুল সংখ্যক মহিলা ভোটারকে ‘ডিসাইডিং ফ্যাক্টর’ হিসাবে দেখছে শাসক দল। তৃণমূলের একাংশের মতে, সংখ্যালঘু ভোটে কিছুটা ভাঙন হলেও মহিলা ভোট যদি একতরফা আনা যায়, তবে জয়ের ব্যবধান বাড়ানো সম্ভব। তাই তৃণমূলের প্রার্থী বুরহানুল মোকাদ্দিম ওরফে লিটন ইতিমধ্যে বুথভিত্তিক বৈঠকে জোর দিয়েছেন। তাঁর প্রচারের কৌশলও খানিক আলাদা। বড় মিটিংয়ের পাশাপাশি ছোটো ছোটো বৈঠকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে মহিলাদের জন্য চালু হওয়া বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে। দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রকল্পগুলির সুফল কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলেছে, তা যেন স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়। তৃণমূলের হিসাব, এই বিষয়গুলি ভোটের সময় মহিলাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে লড়াই একতরফা নয়। আইএসএফ প্রার্থী কুতুবউদ্দিন ফাতেহি এবং কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল রহিম কাজি ওরফে দিলু এই কেন্দ্রে সমানভাবে সক্রিয়। দিলু আগে তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন। এনিয়ে লিটন বলেন, ‘উন্নয়নই আমাদের জেতাবে। বিরোধীরা চেষ্টা করেও দাঁত ফোটাতে পারবে না। প্রতিটি বৈঠকে ব্যাপক সাড়া মিলছে। জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা।’ কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল রহিম কাজি বলেন, ‘মানুষ আমার সঙ্গে আছে। ওদের সব চেষ্টা ব্যুমেরাং হবে।’ একই সুরে আইএসএফ প্রার্থী কুতুবউদ্দিন ফতেহি বলছেন, ‘এবার বাদুড়িয়ায় তৃণমূলের বিসর্জন।’