সদ্য দলত্যাগী প্রাক্তন বিজেপি সভাপতির অনুগামীরা কোন দিকে? জোর চর্চা বারাসতজুড়ে
বর্তমান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, বারাসতের রাজনৈতিক সমীকরণ ততই জটিল হয়ে পড়ছে। এখন যে প্রশ্ন ঘিরে শোরগোল পড়েছে রাজনৈতিক মহলে, তা হল, বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতির অনুগামীদের ভোট শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে? চায়ের দোকান, পাড়ার মোড়, বাজার কিংবা রাজনৈতিক আড্ডা—সব জায়গাতেই এখন শোনা যাচ্ছে এই আলোচনা। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের এই কোন্দল ভোটবাক্সে শেষ পর্যন্ত কাকে লাভবান করবে, তা নিয়েই চলছে জোর চর্চা।
একদা বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি ছিলেন তাপস মিত্র। রবিবার তিনি বিজেপি ছাড়েন। তাঁর দলত্যাগ বারাসতের রাজনীতিতে বড়ো ধাক্কা হিসাবেই দেখছেন বিজেপির নেতাকর্মীরা। কারণ, তাপসবাবু দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসাবে কাজ করেছেন। তাঁর হাত ধরে গড়ে উঠেছিল বিশাল কর্মী-সমর্থক গোষ্ঠী, যা বারাসত লোকসভার সাতটি বিধানসভাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। এহেন নেতার দলত্যাগের প্রভাব যে গভীর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। তার থেকেও বড় প্রশ্ন, তাঁর অনুগামীরা কী সিদ্ধান্ত নেবেন? এখনও পর্যন্ত তাঁরা প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। এই নীরবতা নিয়ে বাড়ছে জল্পনা। অনেকে মনে করছেন, এই ‘সাইলেন্ট ভোটব্যাংকই’ হতে পারে নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’। চায়ের দোকানের আড্ডায় শোনা যাচ্ছে, ‘নিজেদের দলই সামলাতে পারছে না, তারা আবার মানুষের সমস্যার সমাধান করবে কীভাবে!’ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের টানাপোড়েন এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ—সব মিলিয়ে পদ্মশিবির এখন চাপে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং তা বৃহত্তর সমস্যার প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরে দলের মধ্যে যে অসন্তোষ জমে উঠছিল, তাপস মিত্রের দলত্যাগ তারই বহিঃপ্রকাশ। স্বভাবতই এই ঘটনার প্রভাব শুধু বিজেপির সংগঠনের অন্দরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা সরাসরি ভোটবাক্সেও প্রতিফলিত হতে পারে।
প্রসঙ্গত, বারাসত বিধানসভায় বিজেপির টিকিটের দাবিদার ছিলেন তাপসবাবু। কিন্তু তা না হওয়ায় ক্ষোভ বেড়েছে। বিজেপি প্রার্থী শংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘কে কেন দল ছাড়লেন, আমার জানা নেই। আমার কাছে সবার আগে দল। দল যেহেতু আমাকে প্রার্থী করেছে, প্রচার চালাচ্ছি। জয় নিশ্চিত।’ তৃণমূল নেতা তাপস দাশগুপ্তের কটাক্ষ, ‘এই বিজেপিকে নিয়ে বিশেষ কিছু ভাবছি না। ওরা ভোটের আগেই হেরে গিয়েছে।’