• বহু ভোটারের নাম বাদ! সবার মনজয়ে জোর তৃণমূলের
    বর্তমান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
  • বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: ‘সাতগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন বিষ্ণুপুর-২ ব্লকের ১১টি এবং বজবজ-২ ব্লকের সাতটি মিলিয়ে মোট ১৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিটি বুথে এবার বেশি ভোটে লিড চাই। একটি বুথেও হার দেখতে চাই না।’ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রতিটি প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি থেকে সংগঠনের বড়ো থেকে মাঝারি ও নিচুতলার পদাধিকারি—সকলকেই এই নির্দেশ দিয়েছেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। 

    এই নির্দেশ আসার পর থেকেই দলের সকলের ভিতর একটা বড়ো চাপ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ এবার ভোটবৃদ্ধির অঙ্ক খুব হিসাব কষেই করতে হবে, যাতে ফলাফলেই সবটা মিলে যায়। কীভাবে প্রতিটি বুথে এটা করা যেতে পারে, তা নিয়েই সোমবার থেকে দলের ভিতর বুথভিত্তিক গোল টেবিল বৈঠক শুরু হয়েছে। বুথ ধরে ধরে ভোটারদের তালিকা নিয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। 

    দলীয় সূত্রের খবর, একুশে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বুথভিত্তিক ভোটার তালিকার সঙ্গে এবার এখনো পর্যন্ত যতজনের নাম উঠেছে এবং বাদ গিয়েছে তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এবার বিভিন্ন কারণে এমনিতেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় ১৭ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। পরবর্তী ধাপে এখন আরো ৬ হাজারের বেশি নাম—কারো পদবি, কারো-বা নামের শেষ ও শুরুর অক্ষর একটু অদলবদল হওয়ার জন্য বাদ গিয়েছে। তৃণমূলের জেলা স্তরের এক শীর্ষনেতা বলেন, বাদ-পড়া সমস্ত নাম ভোটার তালিকায় ফেরাতে অন লাইন ও অফ লাইনে ট্রাইবুনালে আপিল করার কাজ চলছে। ভোটগ্রহণের আগেই এঁদেরকে নথিভুক্ত করা গেলে তৃণমূলের চিন্তা থাকবে না। না-হলে কী হবে, এনিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগ থাকছেই। 

    এজন্য ভোটবৃদ্ধির বিকল্প একটি পথের সন্ধানে কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বুথ ধরে ধরে কোথায় কোথায় তৃণমূলের ভোটব্যাংক শক্ত কিংবা দুর্বল, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। দুর্বল জায়গাকে কীভাবে মজবুত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে। বুথভিত্তিক কত ভোটের লিড ছিল একুশ এবং চব্বিশের ভোটে? কোথায় কোথায় এবং কত ভোটে হার ছিল বিজেপির কাছে? সেখানে বৈধ ভোটারদের, বিশেষ করে তৃণমূল পরিবার ও তার সদস্যদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বাড়াতে বলা হয়েছে। তাঁদের প্রতিদিনের সুবিধা ও অসুবিধার ব্যাপারে খোঁজখবর রেখে পাশে থাকার জন্য সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে ভোটারদের ব্যক্তিগত ফাইফরমাশ খাটারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের কাছে টেনে আনার লক্ষ্যে। ভোটের দিন পর্যন্ত ভোটারদের মনে তৃণমূল সম্পর্কে যাতে কোনো নেগেটিভ ভাবনা তৈরি না-হয়, সেই ব্যাপারে বিশেষভাবে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে বুথের সাংগঠনিক স্তরের লোকজনকে। এর ভিতর দিয়ে সমস্ত ভোটকেই জোড়াফুলের অনুকূলে আনার কাজ চলছে জোর কদমে।
  • Link to this news (বর্তমান)