• ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদ, ৭৬ লক্ষ টাকা খোয়ালেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ
    বর্তমান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ফের ডিজিটাল অ্যারেস্ট! সিবিআই, ইডি এবং পুলিশ অফিসার সেজে প্রতারণা! সেই ফাঁদে পড়ে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে জমানো ৭৬ লক্ষ টাকা খোয়ালেন এক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। এ ব্যাপারে প্রতারিত বৃদ্ধ সল্টলেকে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও এখনও ওই ঘটনায় খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধার হয়নি। অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারিত বৃদ্ধ বাগুইআটির অশ্বিনীনগরের একটি আবাসনে থাকেন। বয়স ৭৭ বছর। দিন কয়েক আগেই তাঁর মোবাইলে পরপর হোয়াটসঅ্যাপে ফোন আসে। একজন ইডি অফিসার বলে ফোন করেন, অন্যজন পরিচয় দেন সিবিআই অফিসার হিসাবে, আবার আইপিএস অফিসার বলে পরিচয় দেন পরবর্তী ব্যক্তি। ওই অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপককে জানানো হয়, তাঁর আধার কার্ড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তছরুপ হয়েছে। সরকারি নথিপত্র জালিয়াতি করেও তছরুপ করা হয়েছে। তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে।

    প্রতারকরা তাঁকে বিভিন্ন ভুয়ো নথিপত্রও দেখায়। তা দেখে প্রতারকদের কথায় তিনি বিশ্বাস করে ফেলেন। তারপরই প্রতারকদের কথামতো ৭৬ লক্ষ টাকা দিয়ে দেন। তাঁর ব্যাঙ্কে এত টাকা গচ্ছিত ছিল না। মিউচ্যুয়াল ফান্ডে তিনি জীবনের সমস্ত সঞ্চয় রেখেছিলেন। সেই ফান্ড ভাঙিয়ে তিনি ওই টাকা দেন। তারপরই প্রতারকরা তাঁর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন। প্রথমে তিনি ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ নথিভুক্ত করেন। তারপর শুক্রবার তিনি সল্টলেকে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    এদিকে, সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে আইনে কোনও অ্যারেস্ট নেই। পুলিশের পক্ষ থেকে বারংবার সচেতনতামূলক প্রচার করা হয়। কিন্তু, তারপরেও অনেকে অসতর্ক হয়ে এই ফাঁদে পড়ছেন। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকরাই এই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তাই এই ধরনের ফোন এলে সতর্ক হন। প্রয়োজনে স্থানীয় পুলিশের সাহায্য দিন। কিন্তু, কোনওভাবেই অচেনা ব্যক্তির কথায় ভয় পেয়ে গিয়ে আর্থিক লেনদেন করবেন না।
  • Link to this news (বর্তমান)