এই সময়, পুরুলিয়া: গ্যাসের দামে আগুন লেগে গিয়েছে। পুড়ছে গৃহস্থের হেঁশেল। মানুষের রান্নাঘরের জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করে সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দিলেন পুরুলিয়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই কেন্দ্রে দল সুজয়কে প্রার্থী করায় এবং প্রার্থী না-পসন্দ হওয়ায় মুখ ফিরিয়েছিলেন শহরের দলীয় কাউন্সিলারদের সিংহভাগ। পুরুলিয়ায় প্রচারে এসে স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এত দিন কাউন্সিলারদের একাংশকে প্রার্থীর সঙ্গে দেখা না–গেলেও এ দিন প্রার্থীর সঙ্গে বর্ণাঢ্য মিছিলে পা মিলিয়েছেন তাঁদের বড় অংশ। দলের তিন প্রাক্তন শহর সভাপতি বৈদ্যনাথ মণ্ডল, বিভাসরঞ্জন দাস ও প্রদীপ কুমার ডাগা ছিলেন মিছিলে।
শহরের রথতলা থেকে নামোপাড়া, মধ্যবাজার, চকবাজার, পোস্টঅফিস মোড় হয়ে মিছিল প্রশাসনিক ভবনে পৌঁছয়। দলীয় পতাকা, বিভিন্ন প্রকল্পের প্ল্যাকার্ড, প্রার্থীর কাট–আউটের পাশাপাশি হাতে দেখা গিয়েছে জ্বলন্ত আগুনের ছবি সংবলিত গ্যাসের সিলিন্ডার। বিকাশ মাহাতো নামে এক কর্মীর কথায়, ‘বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য হেঁশেল ঠেলতে মানুষকে কী ভাবে নাকাল হতে হচ্ছে, প্রতীকী ভাবে সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে।’
মিছিলে মহিলাদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। মিছিলে অংশ নেওয়া সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো বলেন, ‘নেত্রী মানুষের কাছে যে সমস্ত প্রকল্প পৌঁছে দিচ্ছেন, সেগুলি এবং বিজেপি সরকার কত ভাবে মানুষকে হয়রানির মধ্যে ফেলেছে, সে গুলিও তুলে ধরা হয়েছে।’ দিন কয়েক আগে মনোনয়নপত্র জমা নিয়ে বিজেপি প্রার্থীর মিছিলের ভিড় ও এ দিনের তৃণমূল প্রার্থীর মিছিলের ভিড় নিয়ে দিনভর ছিল চর্চা। মিছিল চলাকালীন শহরের একাধিক রাস্তা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। দলের এক অভিজ্ঞ নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ‘আমাদের এ দিনের মিছিল জনজোয়ারের রূপ নিয়েছিল।’
প্রার্থী সুজয় বলেন, কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে পথে নেমেছেন। অনেকে তো মুখ ফিরিয়েছিলেন। দলে মান–অভিমান থাকে। আমাদের দল আক্ষরিক অর্থেই একটা সংসারের মতো। আজ সবাই হাতে হাত ধরে ঐক্যবদ্ধ ভাবে নেমেছেন।’ তাঁর কটাক্ষ, ‘অনেকেই আড়ালে আবডালে বলাবলি করছিলেন, আমাদের নাকি লোকজন নেই। কর্মীরাই আজ জবাব দিয়েছেন। পুরুলিয়া বলছে সুজয় জিতছে।’ যদিও বিজেপির মুখপাত্র জয়দীপ্ত চট্টরাজ বলেন, ‘এ সবই লোক দেখানো। মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।’