• এক দশকের টানাপড়েনের অবসান, অমরাবতীই এখন অন্ধ্রপ্রদেশের নতুন রাজধানী
    এই সময় | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
  • বিভাজনের প্রায় এক দশক পরে নিজস্ব রাজধানী পেল অন্ধ্রপ্রদেশ। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্প্রতি Andhra Pradesh Reorganisation (Amendment) Act, 2026-এ সই করার ফলে সরকারি ভাবে অন্ধ্রের রাজধানীর তকমা পেল অমরাবতী (Amaravati)। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর সোমবার আইন মন্ত্রক গেজ়েট নোটিফিকেশন জারি করে। ফলে এই বিলটি এখন পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হয়েছে। এই সুখবর নিজেও ঘোষণা করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু।

    এই সংশোধনী বিলটি গত সপ্তাহে লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই পাশ হয়, যার মাধ্যমে ২০১৪ সালের Andhra Pradesh Reorganisation Act, 2014-এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন আইনের ফলে অমরাবতীকে স্থায়ী রাজধানী হিসেবে আইনি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই অবস্থান পরিবর্তন করতে হলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সিদ্ধান্ত ২ জুন ২০২৪ থেকে কার্যকর বলে ধরা হয়েছে।

    দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটল। ২০১৪ সালের ২ জুন অন্ধ্রপ্রদেশকে ভেঙে, দু'টি পৃথক রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলঙ্গানা তৈরি করা হয়। সেই সময়কার অন্ধ্রপ্রদেশ পুনর্গঠন আইন, ২০১৪ অনুযায়ী, পরবর্তী ১০ বছরের জন্য হায়দরাবাদকে দুই রাজ্যের রাজধানী ঘোষণা করা হয়। ওই আইনে বলা হয়েছিল,‘১০ বছরের বেশি সময় পর্যন্ত হায়দরাবাদ দুই রাজ্যের রাজধানী থাকবে না। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে ১ নং উপধারা অনুযায়ী হায়দরাবাদ শুধুমাত্র তেলঙ্গানারই (Telangana Capital Hyderabad) রাজধানী থাকবে। অন্ধ্রপ্রদেশের জন্য নতুন রাজধানী বাছাই করতে হবে এই সময়ের মধ্যে।’ কিন্তু দীর্ঘ দশ বছরে রাজনৈতিক টানাপড়েনে স্থায়ী রাজধানী নিয়ে সিদ্ধান্ত ২০২৪ সালের মধ্যে নেওয়া যায়নি।

    ২০২০ সালে একইসঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি শহরকে রাজধানী করার পরিকল্পনা করেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। বিশাখাপত্তনমকে কার্যনির্বাহী রাজধানী, অমরাবতীকে প্রশাসনিক রাজধানী এবং কুর্নুলকে বিচারবিভাগীয় রাজধানী করার পক্ষপাতী ছিলেন YSR কংগ্রেস পার্টি। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগনমোহন রেড্ডি জানিয়েছিলেন, বিশাখাপত্তনম প্রশাসনিক রাজধানী এবং কুর্নুল বিচারবিভাগীয় রাজধানী হিসেবে গণ্য হবে। অমরাবতী হবে বিধানসভা আসন। রাজধানী নিয়ে এই দড়ি টানাটানির মামলায় গড়ায় আদালত পর্যন্ত। কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট এই যুক্তি খারিজ করে জানিয়ে দেয়, এক রাজ্যের তিন রাজধানী সংক্রান্ত আইন তৈরি সম্ভব নয়।

    ২৪-এ অন্ধ্রপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে জগনমোহন রেড্ডির দলকে হারিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে TDP ক্ষমতায় ফিরতে পরিস্থিতির সম্পূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। তেলুগু দেশম পার্টির প্রধান এন চন্দ্রবাবু নাইডু শপথের আগেই জানিয়ে দেন, ‘তিন তিনটি রাজধানী রেখে রাজ্যের ভবিষ্যতের সঙ্গে খেলা হবে না। অমরাবতী হবে রাজধানী। বিশাখাপত্তনমকে অন্ধ্রপ্রদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’ সেই মতোই শুরু হয় প্রক্রিয়া। অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সেই বিতর্কের অবসান ঘটে।

    অমরাবতীকে অন্ধ্রের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি— রাজ্যের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুও রাষ্ট্রপতির এই অনুমোদনকে রাজ্যের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ বলে উল্লেখ করেছেন।

  • Link to this news (এই সময়)