পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের ‘কলকাতায় হামলা’র হুমকি নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এ বার বাংলায় বিজেপির ভোটপ্রচারে এসে সেই বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহও। ঘটনাচক্রে, পাকমন্ত্রী কলকাতায় হামলা চালানো নিয়ে যা বলেছেন, তা রাজনাথেরই একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে।
ইসলামাবাদের হুমকি নিয়ে মোদী-শাহ তো বটেই, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহও কেন পাকিস্তানকে যোগ্য জবাব দিচ্ছেন না, ভোটপ্রচারে সেই প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নদিয়ার নাকাশিপাড়ার সভা থেকে মমতা বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কলকাতাকে হুমকি দিলেও কেন প্রধানমন্ত্রী চুপ? কেন বললেন না, উপযুক্ত পদক্ষেপ করব?’ তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন, ‘কে বলিয়েছে তাঁকে দিয়ে?’ আরও এক ধাপ এগিয়ে পাক মন্ত্রীকে ‘ঘরে ঢুকে’ মেরে আসতে চান বলেও দাবি করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক! বলেছেন, ‘পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দু’দিন আগে বলেছেন, কলকাতা উড়িয়ে দেব। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আঙুল চুষছেন, চুপ! এখানে এসে বলছেন, তৃণমূলকে সরাব!’ তাঁর পাল্টা হুমকি, ‘যে দিন কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ইন্ডিয়া জোটের সরকার হবে, খাজা আসিফকে ‘ঘর মে ঘুসকে মারেঙ্গে।’
ঘটনাচক্রে, মমতা এবং অভিষেকের এই মন্তব্যের ঠিক পরের দিনই, অর্থাৎ মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে ভোটপ্রচারে গিয়েছিলেন রাজনাথ। সেখানে ভাষণের অধিকাংশ সময় জুড়েই তিনি সরাসরি নিশানা করেছেন মমতাকে। কিন্তু এড়িয়ে গিয়েছেন পাকমন্ত্রীর হুমকি-প্রসঙ্গ।
বস্তুত, গত বৃহস্পতিবার ভোটমুখী কেরালায় দলের প্রচারে গিয়ে পাকিস্তানকে হুমকি দিয়েছিলেন রাজনাথ। বলেছিলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান এখনও শেষ হয়নি। পাকিস্তান আবার কিছু করলে তাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করা হবে। রাজনাথের এই মন্তব্যের পরেই পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ দাবি করেন, ভারত ফের সাজানো হামলার ছক কষছে। তাতে ভারতীয়দের পাশাপাশি ভারতের জেলে বন্দি পাকিস্তানিদেরও ব্যবহার করা হতে পারে। এই প্রসঙ্গেই খোয়াজা কলকাতাকে টেনেছেন। সেই সূত্রে তাঁর দাবি, ‘এর পর কলকাতা পর্যন্ত হামলা চালাবে পাকিস্তান!’
প্রত্যাশিত ভাবেই ভোটমুখী বঙ্গে পাকমন্ত্রীর এই হুমকি নিয়ে শোরগোল পড়েছে। অনেকের মত, জাতীয় স্তরে ভোটযুদ্ধে পাক-প্রসঙ্গ বিরল নয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ভোটে এ ভাবে পাকিস্তানকে সামনে রেখে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল এবং বিজেপির পারস্পরিক তরজায় জড়ানোর ঘটনা শেষ কবে ঘটেছে, তা মনে করতে পারছেন না কেউই। বিষয়টি নিয়ে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নীরবতার কারণে।
ব্যারাকপুরের সভায় রাজনাথ মমতাকে নিশানা করে বলেন, ‘গতবার বাংলা নিজের মেয়েকে চেয়েছিল। তাই আপনাকে ভোট দিয়েছে। কিন্তু আপনি বাংলার মানুষের জন্য কিচ্ছু করেননি। উল্টে, বাংলার মানুষের পিঠে ছুরি মেরেছেন’ বেকারত্ব প্রসঙ্গে রাজনাথ বলেন, ‘এখানকার ছেলেমেয়েরা কাজের জন্য আজ বাইরের রাজ্যে চলে যান। এ রাজ্যে কাজ নেই। শিল্প নেই। কারখানা নেই। তার বদলে সর্বস্তরে দুর্নীতি হচ্ছে। কী করেছেন আপনি বাংলার জন্য?’ এ রাজ্যের তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন রাজনাথ। প্রসঙ্গত, এ রাজ্যে ভোটার তালিকায় নিবিড়় সংশোধন বা এসআইআর-এর যুক্তি দিতে গিয়ে বিজেপি বরাবর অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণের কথাই বলে এসেছে। যদিও এসআইআর পর্বে এখনও পর্যন্ত কত জন অনুপ্রবেশকারীর নাম বাদ গিয়েছে, তা প্রকাশ্যে আনতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।