প্রায় ৬০ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের (Under Adjudication) নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ শেষ। প্রথম দফার ভোটার তালিকা ফ্রিজ় হয়েছে সোমবার রাতেই। সে দিন সন্ধেবেলা পর্যন্ত ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের অর্থাৎ ‘বিবেচনাধীন’ সব ভোটারের নথিই যাচাই সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর (CEO)। এই ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪৫% ভোটারের নাম অর্থাৎ প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।অনেকেরই আশঙ্কা, এই ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বিধানসভা নির্বাচনের আগে আর তালিকায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ প্রায় নেই। মঙ্গলবারই তাৎপর্যপূর্ণ এক্স পোস্ট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। লিখলেন, ২০২৬-এর লড়াই আসলে দুই RC-র মধ্যে লড়াই। একদিকে বিজেপির রিমোট কন্ট্রোল (Remote Control), অন্য দিকে তৃণমূলের রিপোর্ট কার্ড (Report Card)।
এক্স হ্যান্ডলে অভিষেক লেখেন, ‘২০২৬-এর লড়াই আসলে দুই RC-র লড়াই। একদিকে রয়েছে বিজেপির RC। তাদের Remote Control, যার মাধ্যমে বাংলার প্রাপ্য অর্থ আটকে দেওয়া হয়, SIR-এর মতো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলে, অশান্তি ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বীজ বোনা হয়। কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির অপব্যবহার করা হয়। বাঙালিদের রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি তকমা দেওয়া, পরিযায়ী শ্রমিকদের হয়রান করা হয়। অনবরত আমাদের সংস্কৃতি, আইকন, খাদ্যাভাস ও ঐতিহ্যকে অপমান করা হয়। তাদের রিমোট কন্ট্রোল মিথ্যে প্রচারের সময়ে লাউডস্পিকারের ভূমিকা নেয়, কিন্তু সার্বভৌমত্ব ও বাংলার স্বার্থে চুপ করে যায়।’
এর পরেই অভিষেকের লেখায় উঠে এসেছে তৃণমূলের RC প্রসঙ্গ। যাকে অভিষেক বলছেন, তৃণমূলের গত ১৫ বছরের উন্নয়নের Report Card। সেই উন্নয়ন হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও রকম সহযোগিতা ছাড়াই।
অভিষেক লেখেন, ‘এই RC-তে আছে কাজের হিসেব, প্রতিশ্রুতি পূরণ, স্বপ্নের বাস্তবায়ন আর মানুষের জীবনে পরিবর্তন। জলঙ্গি ও ডোমকলে বাবর আলি ও হুমায়ুন কবীর (প্রাক্তন IPS)-এর সমর্থনে জনসভা, হরিশ্চন্দ্রপুর ও চাঁচলে মহম্মদ মাতেবুর রহমান ও প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে বিশাল রোড শো, শিলিগুড়িতে গৌতম দেবের জনসভা— মানুষের রায় স্পষ্ট করে দিচ্ছে।’