আজকাল ওয়েবডেস্ক: একদিকে নমিনেশন জমা দিতে একের পর এক প্রার্থী যাচ্ছে জেলাশাসক অফিসে। আর ঠিক সেই সময় এক ভিন্ন ছবি ধরা পড়ল বারাসতে। ভোরের আলো ফুটতেই লম্বা লাইনের শুরু। তীব্র রোদ মাথায় নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ। কারও বয়স ৮৫, কেউ আবার কোলের শিশুকে নিয়ে হাজির। সবারই একটাই লক্ষ্য, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নিজের নাম ফের তোলার আবেদন। দুশ্চিন্তায় অনেকের খাওয়া-দাওয়াও প্রায় বন্ধ। নির্বাচন কমিশনের উপরে ক্ষোভ উগরে দিলেন অনেকেই।
পাসপোর্ট ২০০২ নাম, যাবতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের দেওয়া নথি দেওয়া সত্ত্বেও আজ বহু ভোটার তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। ট্রাইব্যুনালে নাম তুলতে হবে সেই ভাবনায় কেউ অসুস্থ, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে, কেউ বয়স্ক, কেউ বা এক দু’বার ভোট দিয়েছেন। সব ক্ষেত্রের মানুষের নাম বাদ। কী করবেন, কে সুরাহা দেবেন, কিছুই জানা নেই।
জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া বা ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের ট্রাইব্যুনালে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতেই এই ভিড় জেলাশাসকের দপ্তরে। লাইনে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষের অভিযোগ, “প্রার্থীরা তো তাঁদের নমিনেশন দিচ্ছেন, কিন্তু আমরা এত বছর ধরে ভোট দিয়ে এসে আজ নাম নেই আমাদের। সব আছে।” পাশাপাশি সকলের প্রশ্ন, “এত বছর ধরে ভোট দিয়ে এসেছি, আজ নাম নেই?” এই প্রশ্ন সকলের মুখে। প্রখর রোদে ৩-৪ ঘণ্টারও বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকার ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে সদ্য হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগী, সবাই এই লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, যারা ভোট দিয়ে প্রার্থীদের জয়ী করবেন, তারা ভোট দিতে পারবে কিনা তাই এখন অনিশ্চিত।
অনেকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও। লাইনে দাঁড়ানো হাজারো মানুষের দাবি, এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকেই বঞ্চিত হবেন তাঁরা। আগামী ২৯ তারিখের ভোটকে সামনে রেখে এখন বড় প্রশ্ন এই ভোটাররা আদৌ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন? উত্তর খুঁজতেই দিনভর ডিএম অফিস চত্বরে উদ্বিগ্ন, ক্লান্ত ও অসহায় মানুষের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে দিনের পর দিন।
সারা রাজ্য জুড়েই চিত্রটা একই রকম। সাধারণ মানুষ চিন্তিত। কাটোয়ায় ভোটাধিকার ফেরাতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন জমা ঘিরে সোমবার সকালে চরম ভোগান্তির ছবি ধরা পড়েছে। ভোররাত থেকেই শতাধিক মানুষ মহকুমাশাসকের দপ্তরের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। রবিবার ছুটির কারণে আবেদন গ্রহণ বন্ধ থাকায়, সোমবার অফিস খোলার আগেই জমে যায় দীর্ঘ লাইন। অফিস খোলার সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হুড়োহুড়ি, ঠেলাঠেলির মধ্যে কেউ কেউ পাঁচিল টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত মানুষের মধ্যে। বিশৃঙ্খলার জেরে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও জানা গিয়েছে। লাইনে দাঁড়ানো বহু মানুষের দাবি, ভুলবশত ৬ এপ্রিলকেই ট্রাইব্যুনালে আবেদন জমার শেষ দিন মনে করায় এদিন ভিড় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। প্রয়োজনীয় নথি হাতে নিয়ে রাত থেকেই অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা। অভিযোগ, এত বিপুল ভিড় সামাল দিতে শুরুতে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা ছিল না।