নন্দীগ্রামে বিজেপি নেতার সঙ্গে সিইও মনোজ, ছবি দেখিয়ে আক্রমণ তৃণমূলের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে মনোজ আগরওয়ালের সেই দিনের সফরের কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং তৃণমূল নেতা তথা বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষ। সেই ছবির ভিত্তিতে অভিযোগ করা হয়, মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে এক স্থানীয় বিজেপি নেতাকে দেখা গিয়েছে। তৃণমূলের দাবি, ছবিতে মনোজের পাশে লাল গোল করে চিহ্নিত করা অংশের ব্যক্তির নাম তপনকুমার মহাপাত্র। তৃণমূলের দাবি ছবির ওই ব্যক্তি নন্দীগ্রামের কালীচরণপুর অঞ্চলে বিজেপির আহ্বায়ক। শুধু তাই নন, তিনি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, একজন সিইও যদি কোনও নির্দিষ্ট দলের কর্মীর সঙ্গে ঘোরেন, তা হলে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন যেন ‘দলদাসত্ব’ করছে। কেন সিইও শুরুতে নন্দীগ্রামেই গেলেন, সেই প্রশ্নও তুলেছে তৃণমূল।
যদিও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেনি, তবে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে। দলের নেতা প্রলয় পালের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে ব্যক্তিগত কারণেই সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন। তাঁর দাবি, মনোজ আগরওয়ালের কাজ দেখে সাধারণ মানুষ মুগ্ধ এবং সেই সূত্রেই কেউ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারেন। বিজেপি বোঝাতে চেয়েছে, দলীয় পরিচয় থাকলেও তপন আসলে গিয়েছিলেন ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে। মনোজের ভূমিকায় আপ্লুত হয়ে তাঁকে দেখতে।
উল্লেখ্য, এর আগেও পশ্চিমবঙ্গে নিযুক্ত একাধিক সাধারণ পর্যবেক্ষক, পুলিশ পর্যবেক্ষক, সেক্টর অফিসারের বিরুদ্ধে বিজেপি যোগের অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। এদিন সেই প্রসঙ্গ তুলে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘প্রতিটি দলের যেমন তারকা প্রচারকের তালিকা থাকে। তেমন কমিশনও তাদের তারকা প্রচারকের তালিকা প্রকাশ করুক। বলে দিক, কারা কারা বিজেপির হয়ে প্রচারের কাজ করবে কমিশনের জার্সি পরে। মুখোশটা খুলে ফেলুক।‘ পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তৃণমূল। জেলায় জেলায় ট্রাইব্যুনালের লাইনে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য সিইওর কাছে দাবি তুলেছে তৃণমূল।