• মুর্শিদাবাদের বিড়ি শ্রমিক অধ্যুষিত গ্রামে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় সিংহভাগ নাম
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
  • সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল, প্রায় ১২০০ ভোটারের একটি গ্রামে সাড়ে ৭০০ জনের নামই ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। অর্থাৎ গ্রামের অধিকাংশ মানুষই এখন নিশ্চিত নন— ভোটের তালিকায় তাঁদের নাম আদৌ থাকবে কি না। এই অনিশ্চয়তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে বিড়ি শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনে। বিড়ি শ্রমিক রোজিনা বিশ্বাস জানান, ‘দিনে ৮-১০ ঘণ্টা কাজ করি, তবু সংসার চলে কষ্টে। ১০০০ বিড়ি বাঁধলে ২০৮ টাকা পাই। তার উপর এখন যদি ভোটটাই না দিতে পারি, তাহলে আমরা কোথায় যাব? আমাদের আর কোনও মূল্যই থাকবে না সমাজে।’

    স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর শেখের কথায়, ‘আমার পরিবারের পাঁচজনই বিড়ি শ্রমিক। সবার নামের পাশে ‘বিবেচনাধীন’ লেখা। কেউ এসে কিছু বুঝিয়ে বলছে না। ভোটের দিন যদি নাম না থাকে, তাহলে আমরা কী করব? একই সুর আহমাদ আলির গলাতেও, ‘আমরা গরিব মানুষ, কাগজপত্র সব সময় ঠিক থাকে না। কিন্তু তাই বলে আমাদের ভোটাধিকারই অনিশ্চিত হয়ে যাবে? ভোট না দিতে পারলে গোটা গ্রাম ভোট বয়কট করবে।

    এই গ্রামগুলিতে প্রায় প্রতিটি পরিবারই বিড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই কাজ করেই সংসার চলে। সেই মানুষদের বক্তব্য, তাঁদের আর্থিক অনিশ্চয়তার সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে নাগরিক অধিকার হারানোর আশঙ্কা। অনেকেই বলছেন, ভোটই তাঁদের একমাত্র ক্ষমতা— সেটাই যদি প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে ক্ষোভ বাড়বে স্বাভাবিকভাবেই। সবচেয়ে বড় অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতে কোনও রাজনৈতিক দলই তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় সব দলই সক্রিয় থাকলেও এই সমস্যা নিয়ে কেউ কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের  আভিযোগ, ‘ভোটের সময় সবাই আসে, প্রতিশ্রুতি দেয়। এখন কেউ নেই। এবার যদি কেউ ভোট চাইতে আসে, আগে বলব— আমাদের নাম ঠিক করুন, না হলে ভোট বয়কট।’বিশিষ্ট মহলের মতে,  এই ক্ষোভ এখনও বিস্ফোরিত না হলেও ভিতরে ভিতরে জমাট বাঁধছে। বিড়ি শ্রমিকদের একাংশ ইতিমধ্যেই সংগঠিত হওয়ার কথাও ভাবছেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

    কমিশনের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানান, ‘বিবেচনাধীন’ মানে নাম বাতিল নয়, বরং যাচাই চলছে। সাধারণত নথিপত্রের অসঙ্গতি বা অন্যান্য কারণে এই ট্যাগ দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের বুঝতে হবে যে এখন গোটা বিষয়টাই সুপ্রিম কোর্টের হাতে।  ভোটের আগে এই অনিশ্চয়তা কাটাতে দ্রুত পদক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেই আশঙ্কা। বিড়ি শ্রমিকদের সাফ কথা— ‘আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, আমাদের একটাই অধিকার— ভোট। সেটা যদি নিশ্চিত না হয়, তাহলে এই গণতন্ত্রের কোনও মানে নেই।’
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)