সাত বছরের আইনি জটের পরে মহিলাদের যৌনাঙ্গচ্ছেদ বা 'খতনা' প্রথা সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে।
ভারতে দাউদি বোহরা সম্প্রদায়ের প্রচলিত নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদ বা 'খতনা' প্রথা নিষিদ্ধ করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে ২০১৭ সালে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলার শুনানি ৯ জন বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শীর্ষ আদালত এই প্রথাকে মহিলাদের সাংবিধানিক অধিকার, জীবন ও মর্যাদার লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ দিলেও ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবিতে সাংবিধানিক বেঞ্চে মামলার শুনানি হবে। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি খানউইলকর ও বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ জানিয়েছিল, ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুকন্যার যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
আইনজীবী সুনিতা তিওয়ারি ২০১৭ সালে এই মামলা দায়ের করেছিলেন। এই মামলা দাউদি বোহরা সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত ‘খতনা’ বা ‘খাফজ’ নামক প্রথাটির বিরুদ্ধে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়। এই আবেদনে নারী যৌনাঙ্গচ্ছেদকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা, সরকারকে এর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। আইনজীবী সুনিতা তিওয়ারি শীর্ষ আদালতে এর আগে জানিয়েছিলেন, দেশের অন্যতম শিক্ষিত গোষ্ঠীগুলির মধ্যেই পড়ে ‘দাউদি বোহরা’ জনগোষ্ঠী। আর ভারতে একমাত্র এই মুসলিম জনগোষ্ঠীই শিশুকন্যাদের ‘খাতনা’ করিয়ে থাকে। তাই বিষয়টি শুধুই ধর্মীয়, এমনটা নয়।
দাউদি বোহরা নামে ওই মুসলিম ধর্মীয় গোষ্ঠীর বসবাস প্রধানত, মহারাষ্ট্র, গুজরাত, রাজস্থান ও দিল্লিতে। এই প্রথায় শিশুকন্যাদের যোনির বাইরের কিছু অংশ কেটে বা ছেঁটে ফেলা হয়। আফ্রিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে এই প্রথার চল ছিল। কিন্তু অনেক দেশই এখন এই প্রথাকে বেআইনি ঘোষণা করেছে।
এই মামলায় ‘দাউদি বোহরা উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন ফর রিলিজিয়াস ফ্রিডম’-এর তরফে কংগ্রেস নেতা ও আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি সুপ্রিম কোর্টে অনেক আগে আদালতে জানিয়েছিলেন, এই ধর্মীয় প্রথা প্রায় ১০০০ বছর ধরে পালন করে আসছে উল্লিখিত ধর্মীয় গোষ্ঠী। ধর্মীয় প্রথা পালন করার সাংবিধানিক অধিকার সকলের রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর যুক্তি, শিশুকন্যাদের যৌনাঙ্গের কিছু অংশ কেটে বাদ দেওয়ার সঙ্গে স্বাস্থ্যহানির কোনও সম্পর্ক নেই। 'দাউদি বোহরা উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন ফর রিলিজিয়াস ফ্রিডম' এই প্রথাকে সম্প্রদায়ের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে দাবি করে বিরোধিতা করছিল। যার ফলে এই প্রথা ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম ব্যক্তিগত অধিকারের আইনি দ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে।
এই মামলায় আবেদনকারী সুনিতা তিওয়ারি শীর্ষ আদালতে জানিয়েছিলেন, দেশের অন্যতম শিক্ষিত গোষ্ঠীগুলির মধ্যেই পড়ে ‘দাউদি বোহরা’ জনগোষ্ঠী। আর ভারতে একমাত্র এই মুসলিম জনগোষ্ঠীই শিশুকন্যাদের ‘খাতনা’ করিয়ে থাকে। তাই বিষয়টি শুধুই ধর্মীয়, এমনটা নয়।
এই মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান কী? সরকার প্রথমে এই প্রথা বন্ধে আইন তৈরির ইঙ্গিত দিলেও পরে জানিয়েছিল যে, ভারতে এই প্রথার অস্তিত্বের কোনো অফিসিয়াল তথ্য নেই, যা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।