২০১৪ সালের প্রাথমিক টেটে (2014 TET) ৬ প্রশ্ন ভুল মামলায় সব পরীক্ষার্থীকেই দিতে হবে অতিরিক্ত নম্বর। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের এই রায়কেই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। খারিজ হয়ে গেল রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের আবেদন। চার মাসের মধ্যে নতুন করে ফলপ্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এর জেরে প্যানেলে ব্যাপক রদবদলের সম্ভাবনা।
এ দিন সুপ্রিম কোর্টে ছিল ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় ভুল প্রশ্ন মামলার শুনানি। কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের বিরোধিতার করে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। ২০১৪ সালে টেট পরীক্ষায় ছয়টি ভুল প্রশ্নের নম্বর, সকল পরীক্ষার্থীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশে বিরোধিতা করে ২০২৩ সালে পর্ষদ আপিল মামলায় শীর্ষ আদালতে জানায় যে, সকল পরীক্ষার্থীকে এই নম্বর দেওয়া সম্ভব নয়।
এ দিন মামলার শুনানিতে পর্ষদের আইনজীবী বলেন, ‘যাঁরা ওই ৬ প্রশ্নের উত্তর দেননি, তাঁদের কেন এই নম্বর দেওয়া হবে?’ এর পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ‘এ ক্ষেত্রে হাইকোর্টের অবস্থানই সঠিক। আমরা হস্তক্ষেপ করব না।’ একই সঙ্গে আদালতের মতে, এতে পরীক্ষার্থীদের কোনও ভূমিকাই নেই। পর্ষদের ভুলের কারণে কেন পরীক্ষার্থীরা ভুগবেন! যে হেতু ওটা পর্ষদের ভুল, তাই প্রত্যেককেই অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া উচিত। পর্ষদের আবেদন খারিজ করে বিচারপতি পি এস নরসিমহার (P. S. Narasimha) নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সমস্ত পরীক্ষার্থীকেই ওই ৬ প্রশ্নের জন্য অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার নির্দেশ দেন। আগামী চার মাসের মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করার কথা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
এই রায়ের ফলে ২০১৪ সালে টেট পরীক্ষায় বসা সমস্ত পরীক্ষার্থীরাই অতিরিক্ত ৬ নম্বর করে পাবেন। এর ফলে নতুন করে প্যানেল প্রকাশ করতে হবে পর্ষদকে। পরীক্ষার্থীদের মোট নম্বরের সঙ্গে অতিরিক্ত ৬ নম্বর যোগ করা হলে প্যানেলে রদবদলের সম্ভাবনা প্রবল। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যাঁরা ১, ২, ৩, ৪, ৫ বা ৬ নম্বরের জন্য এতদিন উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাঁরা প্রত্যেকেই এবার উত্তীর্ণ বলে গণ্য হবেন। অর্থাৎ কাট মার্কসের কাছাকাছি থাকা পরীক্ষার্থীদের জন্য সুখবর বয়ে আনতে চলেছে এই নির্দেশ।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে টেট পরীক্ষায় প্রশ্ন ভুল সংক্রান্ত বিষয়টি প্রথমবার প্রকাশ্যে এসেছিল ২০১৮ সালে। টেট পরীক্ষায় ৬টি প্রশ্ন ভুল ছিল, এই অভিযোগ জানিয়ে মামলা করেন ১৭৫ জন। পরে আরও কয়েক জন তাতে যোগ দেন। ২০১৮ সালে এ নিয়ে তদন্তের জন্য কমিটি তৈরির নির্দেশ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। অতিরিক্ত ৬ নম্বর দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে যায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চও মামলায় একই নির্দেশ দিয়েছিল।
এর পরে ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেটের বাকি পরীক্ষার্থীরাও আদালতের দ্বারস্থ হয় এবং তাঁরাও নম্বর বাড়ানোর জন্য আবেদন করে। তখনই পর্ষদ কোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে এই বিপুল পরিমাণ পরীক্ষার্থীকে নতুন করে ছয় নম্বর দিতে হলে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হবে। যদিও কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ পরীক্ষার্থীদের আবেদনেই সাড়া দিয়েছিল।
রিপোর্টিং- অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়