• ফ্যাক্টর কুড়মি ভোট, গোপীবল্লভপুরে জোর টক্কর দুই মাহাতোর
    এই সময় | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
  • বুদ্ধদেব বেরা

    গোপীবল্লভপুর বিধানসভায় সিংহভাগ কুড়মি সম্প্রদায়ের (Kurmi) মানুষের বসবাস। বিধানসভার রাশ কার হাতে থাকবে তার নির্ণায়ক হয়ে ওঠেন কুড়মিরাই। ST তালিকায় কুড়মিদের অন্তর্ভুক্তির দাবি নিয়ে আন্দোলন বহু দিনের। কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের বিরুদ্ধেই আন্দোলনে নেমেছেন কুড়মি জনজাতির মানুষেরা। তবে, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে কুড়মিদের পাশে পেতে মরিয়া হয়ে পড়েছে তৃণমূল-বিজেপি, দুই শিবিরই। তাঁদের সমর্থন জুটলেই দখল করা সম্ভব গোপীবল্লভপুর বিধানসভা।

    কুড়মি ভোট যাতে বেহাত না হয়, একেবারে হিসাব কষেই কুড়মি সমাজ (পশ্চিমবঙ্গ)-এর রাজ্য সভাপতি রাজেশ মাহাতোকে গোপীবল্লভপুর বিধানসভার প্রার্থী করেছে বিজেপি। রাজেশ গোপীবল্লভপুর বিধানসভার সাঁকরাইল ব্লকের বাসিন্দা। পেশায় তিনি খড়্গপুরের একটি হাইস্কুলের শিক্ষক।

    অন্য দিকে, দলের দীর্ঘদিনের নেতা ঝাড়গ্রাম পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অজিত মাহাতোকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। গত লোকসভা নির্বাচন থেকেই তিনি গোপীবল্লভপুর বিধানসভা এলাকার অবজার্ভার হিসেবে কাজ করছেন। বামেদের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন সিপিআই-এর বিকাশ ষড়ঙ্গী, কংগ্রেসের প্রার্থী সৌরভ রায়।

    গোপীবল্লভপুর বিধানসভার ঝাড়গ্রাম গ্রামীণ ব্লকের ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে শালবনি, লোধাশুলি, দুধকুণ্ডি, আগুইবনি, পাটাশিমুল, চন্দ্রী-সহ ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে কুড়মি ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া সাঁকরাইল ব্লকের পাথরা, রোহিনী, রগড়া, ছত্রী-সহ মোট ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েত, গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের ৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে তপসিয়া, বেলিয়াবেড়া, খাড়বন্ধি ও পেটবিন্ধি এই চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে কুড়মি ভোট। গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি ছাড়া অন্য গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও সিংহভাগ কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস।

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী সঞ্জিত মাহাতোকে প্রায় ২৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে প্রায় এক লক্ষ চার হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী খগেন্দ্রনাথ মাহাতো। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে বিজেপির থেকে ভোটের অঙ্কে যথেষ্ট এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। তবে, এ বারের নির্বাচনের লড়াই হাড্ডাহাড্ডি।

    প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনী প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তৃণমূলের প্রার্থী অজিত মাহাতো এবং বিজেপি প্রার্থী রাজেশ মাহাতো। সকাল থেকেই চা চক্র, কর্মী বৈঠক, মিছিল, বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ চলছে।

    কুড়মি ভোট বিজেপির হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে কুড়মি অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে তৃণমূলের অজিত মাহাতো কুড়মি গ্রামগুলিতে জমিয়ে প্রচার করছেন। অজিত বলেন, ‘বিজেপি নিজেদের লাভের স্বার্থে এখানে কাকে প্রার্থী করেছে, তাতে কিছু এসে যায় না। মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের স্বার্থেই নির্বাচনে নিজের ভোট তৃণমূলকে দেবেন। আদিবাসী, কুড়মি, অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনও বিভাজন আমরা করি না। গ্রামে, হাটে বাজারে সর্বস্তরের মানুষ একসঙ্গেই বাজার-হাট করে থাকি। ফলে ভোটের দিনও সবাই একসঙ্গেই সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে তৃণমূলের পাশে থাকবে।’

    বিজেপি প্রার্থী রাকেশ মাহাতোর বক্তব্য, ‘এই এলাকার মানুষের পাশে আমি সারা বছরই রয়েছি। নির্বাচন বলে ভোট চাওয়ার জন্য এখন কেবলমাত্র বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছি না। এই সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ফলে এ বারের নির্বাচনে ঘরের ছেলেকে জেতাতেই সর্বস্তরের মানুষ পদ্মফুলে ভোট দেবেন।’

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপীবল্লভপুর বিধানসভায় প্রায় ২ লক্ষ ২৭ হাজার ভোটার রয়েছেন। কুড়মিদের বিভিন্ন সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, ৩৮ থেকে ৪০ শতাংশ কুড়মি ভোটার রয়েছেন গোপীবল্লভপুর বিধানসভায়। এই কুড়মি ভোটের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। তবে নির্বাচনের লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে তা কেবলমাত্র সময়ের অপেক্ষা।

  • Link to this news (এই সময়)