আর কয়েকদিন পরেই রাজ্যে হতে চলেছে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। রাজ্যের ভোটে বার বার ভোটের দিন অশান্তির খবর মেলে। এ বার গোড়া থেকেই অশান্তি রুখে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ করানোর জন্য পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেই আবহেই ভোটগ্রহণ বুথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপের কথা জানাল নির্বাচন কমিশন (ECI)। প্রতিটি বুথে ক্যামেরা থেকে শুরু করে সেই ফুটেজ নিরন্তর নজরদারি করে যাওয়া-সহ একাধিক পরিকাঠামোর কথা জানালেন পশ্চিমবঙ্গের স্পেশাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত।
তিনি জানিয়েছেন, এ বার প্রতিটা বুথে ২টি ক্যামেরা থাকছে। একটি বুথের বাইরে ও একটি ভিতরে। বুথের ভিতরের ক্যামেরা পোলিং এজেন্ট, পোলিং স্টাফ, ভোটিং কম্পার্টমেন্টের বাইরে ছবি দেখাবে। সুব্রত গুপ্ত নিশ্চিত করেছেন যে, বুথের ভিতরের ক্যামেরা এমন ভাবে বসানো হবে যাতে কোনওভাবেই ইভিএম বা ভোটার কাকে ভোট দিচ্ছেন তা দেখা না যায়। বাইরের ক্যামেরা ভোটবুথের লাইনের উপর নজর রাখবে।
ভোট শান্তিপূর্ণ করতে প্রযুক্তি উপর ভরসা করছে নির্বাচন কমিশন। কন্ট্রোল রুমে ৭২টি টিভি স্ক্রিনে একসঙ্গে ৫০০ বুথের ছবি দেখা যাবে। সেগুলির উপর নজর রাখবেন মাইক্রো অবজ়ার্ভাররা। সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, এ বার এআই- সিস্টেম রাখা হয়েছে। কোনও বুথে কোনও সমস্যা হলে এআই সিস্টেমের সাহায্যে সেটা দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
আপাতত ১০টি লাইন রয়েছে, শুধুমাত্র অভিযোগের জন্য। সারা রাজ্য থেকে টোল ফ্রি নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে। অভিযোগ এলেই সেটা সত্যি কি না সেটা দেখে নেওয়া যাবে ক্যামেরার মাধ্যমে। সেই মতো সেক্টর অফিস, অবজ়ার্ভার, পুলিশ অবজ়ার্ভার, কুইক রেসপন্স টিমকে সতর্ক করা হবে।
সুব্রত গুপ্ত জানাচ্ছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি করার সময়ে অনেক ক্ষেত্রে খবর পরে আসে। ফলে পদক্ষেপ করতে দেরি হয়। ওই খবর যাতে তৎক্ষণাৎ আসে এবং কোথাও কোনও রকম সমস্যা হলে তৎক্ষণাৎ যাতে সেখানে পৌঁছনো যায়, তার জন্য পরিকাঠামো রয়েছে। তিনি জানাচ্ছেন, সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমে ৭২টি স্ক্রিনে বুথের ছবি দেখা যাবে। এছাড়া আরও ১৮টি স্ক্রিনে স্ট্যাটিক ও মুভিং সার্ভেল্যান্স টিমের উপর নজর রাখা হবে।
আগামিকাল গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। মোথাবাড়ির ঘটনার পুনরাবৃত্ত চায় না নির্বাচন কমিশন আর তাই এই পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছে কমিশন। আগামিকাল বুধবার রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ সমস্ত পর্যবেক্ষক, পুলিশ সুপার, জেলাশাসকদের সঙ্গে এই বৈঠক হবে। জানা যাচ্ছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে এই বৈঠক হতে পারে ভার্চুয়ালি। বৈঠকে থাকবেন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল।