বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। ২০১৯ ও ২০২৪ দু’বারের লোকসভা ভোটেই জলপাইগুড়ি আসন দখলে রেখেছে বিজেপি। জলপাইগুড়ি জেলাতেই রয়েছে নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্র। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে পদ্ম ফুটেছিল। চা বাগান অধ্যুষিত এই এলাকায় নিজেদের দখলে রাখতে মাটি কামড়ে পড়েছে বিজেপি। পাল্টা জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থীও। চা বাগানের অলিগলিতে এখন দুই ফুলের প্রচারের টক্কর।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নাগরাকাটার জয়ী প্রার্থী পুনা ভেংরাকেই ফের প্রার্থী করেছে বিজেপি। ফলে নিজের জেতা আসন থেকে ফের জয় পেতে মরিয়া তিনি। জোরকদমে চলছে প্রচার। মঙ্গলবার সকাল থেকে তাঁকে নানা চা বাগানে ঘুরে ঘুরে প্রচার চালাতে দেখা যায়। চা বাগানের পরিকাঠামো এবং মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এ দিন সেগুলিই শোনেন বিজেপি প্রার্থী। লুকসান চা বাগানে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। শ্রমিকদের মাঝে বসে পড়েই শোনেন অভাব-অভিযোগ। তার সঙ্গেই পুনা ভেংরার প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্প। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে চা শ্রমিকদের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে প্রচারও করেছেন তিনি। এ দিন লুকসান, গাঁঠিয়া এবং আইভিল চা বাগানে প্রচার চালান পুনা ভেংরা। প্রবল রোদের মধ্যেই প্রচারে তাঁর সঙ্গী ছিল ডাবের জল, ঠান্ডা পানীয়।
২০১৯ থেকেই বিজেপির প্রচারে বার বার উঠে এসেছে চা বাগানের নানা সমস্যা। কখনও চা বাগান অধিগ্রহণ করে খুলে দেওয়া, কখনও চা বাগানের পরিকাঠামোর উন্নয়নের আশ্বাস পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু তাঁদের জীবনে তার প্রভাব দেখা যায়নি বলেই জানাচ্ছেন শ্রমিকেরা।
প্রচারে থেমে নেই তৃণমূলও। সারা রাজ্যে জোড়াফুলের প্রবল ঝড় বার বার থমকে গিয়েছে ডুয়ার্সের চা বাগানে। ২০১৯ ও ২০২৪ লোকসভা, ২০২১ বিধানসভা- এই আসন বারবার খালি হাতে ফিরিয়েছে তৃণমূলকে। উত্তরবঙ্গের, বিশেষ করে চা বাগান এলাকার ভরসা জিততে এই এলাকায় সভা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি সভা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার নাগরাকাটায় জোড়াফুল ফোটাতে গোটা এলাকা কার্যত চষে বেড়াচ্ছেন ওই বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্জয় কুজুর।
কখনও পায়ে হেঁটে প্রচার করছেন, কখনও সওয়ার হচ্ছেন মোটরবাইকে। বাগানের সব মহল্লা, অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। মঙ্গলবার নাগরাকাটার কিলকোট চা বাগানে পৌঁছে যান সঞ্জয় কুজুর। সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ দিন সাতখাইয়া ও আইবিল চা বাগানেও প্রচার চালান তৃণমূল প্রার্থী। রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের প্রচার ছিল তাঁর মুখে। তার সঙ্গেই শ্রমিকদের সমস্যার কথাও শোনেন। এ দিন প্রচারে প্রার্থীর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল নেতা জোসেফ মুন্ডা, ব্লক যুব তৃণমূল সভানেত্রী স্বপ্না ওরাওঁ, মাটিয়ালি-বাতাবাড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দীপা মিঝার এবং অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি শচীন দারনাল।
চা বাগানের অব্যবস্থা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ ওঠে বার বার। জানুয়ারি মাসে আলিপুরদুয়ারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাতেও উঠেছিল সেই প্রসঙ্গ। শ্রমিকদের অভিযোগ শুনে তা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। প্রশ্ন উঠেছিল চা বাগানের মজুরি নিয়ে। এক চা শ্রমিকের ওই প্রশ্ন শুনেই তাঁকে মঞ্চে ডেকে নিয়েছিলেন অভিষেক। সবটা শুনে তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, ‘সরকার তৈরি হবে। তার ৩০ দিনের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হবে। সেই সময়ে যিনি মন্ত্রী, তিনি মিটিংয়ে থাকবেন। তার সাত দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে। ৩০০ টাকা হবে দৈনিক মজুরি।’ সঙ্গে বাগানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, পরিকাঠামো নিয়েও আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি।
ওই আশ্বাসে কি চা বাগানের ভরসা জিতবে তৃণমূল? নাগরাকাটার মানুষের মনে কী রয়েছে, সেটাই ব্যালট বন্দি হবে ২৩ এপ্রিল। তার আগে চলছে ঝোড়ো প্রচার।