• বোমা-সংঘর্ষে জ্বলছে ভাঙড়, রাস্তায় ধর্নায় নওশাদ
    আজকাল | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ভোটের মুখে ফের উত্তপ্ত ভাঙড়। আইএসএফ প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি-র নির্বাচনী প্রচারকে ঘিরে তীব্র অশান্তির ছবি সামনে এল। অভিযোগ, প্রচার চলাকালীন আইএসএফ কর্মীদের উপর হামলা, বোমাবাজি এবং দলীয় পতাকা ছেঁড়া—সব মিলিয়ে উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়।

    মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভাঙড় ১ নম্বর ব্লকের প্রাণগঞ্জ অঞ্চলে জোরকদমে প্রচার শুরু করেন নওশাদ সিদ্দিকি। স্থানীয় স্তরে জনসংযোগের পাশাপাশি কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। কিন্তু বিকেলের দিকে রাজাপুর বুথে নির্ধারিত কর্মসূচির আগেই পরিস্থিতি আচমকা অশান্ত হয়ে ওঠে। আইএসএফের অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আচমকা হামলা চালায় তাঁদের উপর। শুধু তাই নয়, এলাকায় বোমাবাজি করে আতঙ্ক ছড়ানো হয় এবং দলীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলা হয়। এই ঘটনায় একাধিক কর্মী আহত হন বলেও দাবি দলের।

    ঘটনার খবর পেতেই দ্রুত নলমুড়ি হাসপাতালে ছুটে যান নওশাদ সিদ্দিকি। আহত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। হাসপাতাল চত্বরে পুলিশের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং কেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা নিয়ে তীব্র বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এরপরই অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে সরাসরি রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    বাসন্তী রাজ্য সড়কের নলমুড়ি এলাকায় শুরু হয় অবরোধ। রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন নওশাদ সিদ্দিকি। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভে সামিল হন ক্যানিং পূর্বের আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলাম-ও। অবরোধের জেরে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভাঙড় থানার পুলিশ। পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় কলকাতা পুলিশের পদস্থ আধিকারিকদেরও। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা চলতে থাকে। তবে নওশাদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস না পেলে অবরোধ তোলা হবে না।

    শেষমেশ পুলিশের পক্ষ থেকে রাত বারোটার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এরপর আবারও প্রচারে ফেরেন নওশাদ সিদ্দিকি। যদিও এই ঘটনার জেরে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে।

     
  • Link to this news (আজকাল)