• বিজেপি এবং তৃণমূল হল একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: কংগ্রেস
    আজকাল | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরিবর্তন চেয়ে রাজ্যে তৃতীয় বিকল্প হয়ে উঠতে চায় কংগ্রেস। রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে মঙ্গলবার কলকাতায় দলের ইস্তাহার প্রকাশ উপলক্ষে শতাব্দী প্রাচীন 'হাত' শিবিরের পক্ষ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি সম্পর্কে জানানো হল, তারা একই মুদ্রার এপিঠ এবং ওপিঠ। 

    ইস্তাহার প্রকাশের এই অনুষ্ঠানে ছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়গে, কেন্দ্রীয় নেতা ও সাংসদ জয়রাম রমেশ, রাজ্যে দলের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, প্রাক্তন সাংসদ ও দলের প্রবীণ নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। 

    রাজ্যে কংগ্রেসের শাসনকালে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদাহরণ দিয়ে এবং উন্নয়নের প্রশ্নে এদিন গেরুয়া ও ঘাসফুল শিবিরকে বিঁধে জয়রাম রমেশ বলেন, "বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস হল একই মুদ্রার এপিঠ এবং ওপিঠ।" 

    দলের প্রতীক হাত এবং হাত-এর পাঁচ আঙুলের মতো এদিন কংগ্রেসের তরফে পাঁচটি বিশেষ প্রতিশ্রুতি ইস্তাহারে প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে নারীদের উন্নয়নের জন্য মাসে ২০০০ টাকা করে দেওয়া ছাড়াও স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং বিনা পয়সায় সরকারি পরিবহনের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। ইস্তাহারে সবার উপরে এই প্রতিশ্রুতিকে রেখে নামকরণ করা হয়েছে, 'দুর্গা সম্মান'। 

    চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রখ্যাত চিকিৎসক এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের নামে কংগ্রেস রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য ১০ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বিমা ছাড়াও বিনামূল্যে ক্যানসার চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুবকদের কথা মাথায় রেখে তাদের প্রতিশ্রুতি, ক্ষমতায় এলে 'যুব সম্মান' প্রকল্পে ১ বছরের মধ্যে সরকারের সমস্ত শূন্যপদ পূরণ এবং নিশ্চিত ইন্টার্নশিপের সুযোগ করে দেওয়া হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে 'শিক্ষার আলো' প্রকল্পে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং কৃত্রিম মেধা শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে বলে কংগ্রেস দলের তরফে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে 'কৃষক সম্মান' প্রকল্পের কথা ঘোষণা করে কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে কৃষকদের বছরে ১৫ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। 

    কেন কংগ্রেস এবারের বিধানসভায় এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নিল তার ব্যাখ্যায় দলের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানান, এর আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য তাঁরা আসন সমঝোতার জন্য বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু এবার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই এককভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    রাজ্য বিজেপির প্রদান মুখপাত্র আইনজীবী দেবজিৎ সরকার বলেন, "যদি বিজেপি এবং তৃণমূল তাই হয় তাহলে কংগ্রেস কেন তৃণমূলের সঙ্গে আইএনডিআইএ জোট-এ আছে? কংগ্রেস এখন এই রাজ্যে শুধু ক্ষয়িষ্ণু নয় একেবারেই ক্ষয়ে যাওয়া একটি দল। লোকসভাতেও কিন্তু কংগ্রেসের বিরোধী দল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যা নেই। রাখতে হয় তাই বিজেপির দয়া দাক্ষিণ্যে রয়েছে। আসলে কংগ্রেসকে এদেশের মানুষ গ্রহণ করেছেন, পরীক্ষা করেছেন এবং পরিত্যাগ করেছেন।"

    তৃণমূল কগ্রেস নেতা এবং রাজ্যে দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, "জয়রাম রমেশ আসলে রাহুল গান্ধীকে নকল করতে গিয়ে কেরালার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে গুলিয়ে ফেলেছেন। এরাজ্যে কংগ্রেসই ভোট কেটে বিজেপিকে জিততে সাহায্য করে। আমার প্রশ্ন, শূন্য হয়ে যাওয়া কংগ্রেস ২০২১-এর ওই কঠিন সময়ে কেন প্রার্থী দিয়েছিল? কার সুবিধা করতে? এই প্রশ্নের উত্তরটাও কিন্তু তাঁকে দিতে হবে জেতার সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁরা ২৯৪টি আসনে প্রার্থী দিচ্ছেন? কার সুবিধা করতে?"

     
  • Link to this news (আজকাল)