মিছিল করে মনোনয়ন (nomination) জমা দিতে যাবেন কৃষ্ণনগর উত্তরের (Krishna Nagar) তৃণমূল প্রার্থী অভিনব ভট্টাচার্য (TMC Candidate Abhinab Bhattacharya)। এলাকার সবাই জড়ো হচ্ছিলেন। কিন্তু বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্য নামে এক যুবক মিছিলে যোগ দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। মারের চোটে তাঁর হাত ভেঙে গিয়েছে বলে অভিযোগ। নদিয়ার কৃষ্ণনগরের নলুয়াপাড়া এলাকার এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বোধিসত্ত্বর বাড়ি কৃষ্ণনগরের নদের পাড়া এলাকায়। গত শুক্রবার নলুয়াপাড়ায় এক বন্ধুর বাড়িতে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময়ে স্থানীয় একটি ক্লাবে ৭-৮ জন তৃণমূল কর্মী বসে ছিলেন। অভিযোগ, তাঁরাই বোধিসত্ত্বকে মিছিলে যোগ দিতে বলেন। কিন্তু আপত্তি জানান ওই যুবক। তখনই লোহার রড়, উইকেট দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তাঁর গলার সোনার চেনও ছিনতাই করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে।
ঘটনার পরেই বোধিসত্ত্বকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তাঁর হাতে ব্যান্ডেজ করেন চিকিৎসকরা। ইতিমধ্যেই তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বোধিসত্ত্বের মা তুলিকা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে বেধড়ক মেরে হাত ভেঙে দিয়েছে। ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
মারধরের ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন কৃষ্ণনগর শহর যুব তৃণমূলের সভাপতি কৌশিক মজুমদার। তিনি বলেন, ‘এরকম কোনও ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। তবে সত্যি যদি ঘটে থাকে, তা হলে পুলিশের কাছে অনুরোধ, তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিন।’ এই ঘটনায় তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলে কৃষ্ণনগর বিজেপির মিডিয়া কনভেনার সন্দীপ মজুমদার বলেন, ‘তৃণমূল ভয় পেয়ে গিয়েছে। তাই মানুষকে জোর করে মনোনয়নের মিছিলে আনতে হচ্ছে। ভোটেই এর জবাব পাবে।’ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।