• ‘মাসের ওই তিন দিন মহিলারা অচ্ছুৎ নন’, শবরীমালা মামলায় ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ বিচারপতি নাগারত্নার
    এই সময় | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ‘বেছে বেছে মাসের ওই তিনটে দিন মহিলাদের ‘অচ্ছুৎ’ করে রাখা যায় না’— মঙ্গলবার শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এ ভাবেই ঋতুস্রাব নিয়ে গোঁড়ামির বিরুদ্ধে সরব হলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি ভি নাগারত্না। আইনজ্ঞদের মতে, শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ষ। গোটা দেশে সাড়া ফেলে দিয়েছে বিচারপতি নাগারত্নার এই পর্যবেক্ষণ।

    সংবাদসংস্থা PTI সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে বিচারপতি নাগারত্না বলেন, ‘একজন মহিলা হিসেবে আমি বলতে পারি, প্রতি মাসে তিন দিন ধরে অস্পৃশ্যতা পালন করা এবং চতুর্থ দিনে তা না করা— এমনটা হতে পারে না। কঠোর বাস্তবতার নিরিখে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। একজন মহিলা হিসেবে আমি বলছি, তিন দিন সংবিধানের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদটি (অস্পৃশ্যতা বিলোপ সংক্রান্ত) প্রযোজ্য হবে না, আর চতুর্থ দিনে অস্পৃশ্যতা বলে কিছু থাকবে না, এমনটা হতে পারে না।’

    তিনি আরও জানান, ঋতুস্রাবের দোহাই দিয়ে মহিলাদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।

    শুনানি চলাকালীন ২০১৮ সালের শবরীমালা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যে রায দিয়েছিল, তা নিয়ে আপত্তি জানান সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। প্রসঙ্গত, সেই রায়ে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ঋতুস্রাবের ভিত্তিতে মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশাধিকার না দেওয়াকে ‘অস্পৃশ্যতা’র শামিল বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন।

    কেন্দ্রের তরফে তুষার মেহতা দাবি করেন, ‘ভারত পশ্চিমের মতো পুরুষতান্ত্রিক দেশ নয়। এখানে দেবীদের পূজা করা হয়, রাষ্ট্রপতির আসনে মহিলা আসীন। শবরীমালার প্রথা একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়, অস্পৃশ্যতা নয়।’

    ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে, শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সের মহিলাদের প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ ছিল, ঋতুস্রাবের দোহাই দিয়ে মন্দিরে প্রবেশাধিকার না দেওয়া আসলে মহিলাদের মর্যাদাহানি। এ দিন সেই রেশ টেনেই বিচারপতি নাগারত্না মনে করিয়ে দেন, ধর্মের নামে কারও শারীরিক স্বাতন্ত্র্য বা ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা যায় না।

  • Link to this news (এই সময়)